শনিবার ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

একীভূতকরণ : ব্যাংক খাতের সংকট কি কাটবে ?

  |   সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   258 বার পঠিত

একীভূতকরণ  : ব্যাংক খাতের সংকট কি কাটবে ?

এম এ মাসুম
একীভূতকরণ বা মার্জার হলো দুই বা ততোধিক কোম্পানির একত্রীকরণ। অন্যভাবে বলতে মার্জার হল এমন একটি লেনদেন যা দুটি পৃথক ব্যবসায়িক সত্তাকে একটি নতুন সংস্থায় একত্রিত বা সংমিশ্রণ করে। এর ফলে নতুন কোম্পানি সৃষ্টি হতে পারে; আবার আকারে ছোট কোনো কোম্পানি বড় কোম্পানির সঙ্গে একীভূত হলে বড় কোম্পানির সঙ্গে ছোট কোম্পানির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেতে পারে। বিশ্বে অনেক সফল মার্জিংয়ের উদাহরণ আছে। মাজিংয়ের মাধ্যমে খরচ কমিয়ে দুইটি ব্যাংককে এক করে আরো শক্তিশালী করা হয়।
মার্জারের ইতিহাস
ব্যাংকিং খাতে ব্যাংক কোম্পানিগুলোর একীভূতকরণ বা অধিগ্রহণ কোনো নতুন বিষয় নয়। ১৮০০ শতকের প্রথম ভাগেই ব্যাংক একীভূতকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ব্রিটেনে, যা আজ অবধি সারা বিশ্বে চলমান। ব্যাংক একীভূতকরণ বা অধিগ্রহণের বাজারভিত্তিক ব্যাখ্যা রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হ”েছ অধিগ্রহণকারী ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাজারভিত্তিক শক্তি বা মার্কেট পাওয়ার বৃদ্ধি, ইকোনমিজ অব স্কেল বা স্কোপের সুবিধা বৃদ্ধি, বৈচিত্রায়নের মাধ্যমে ঝুঁকি হ্রাসকরণ ইত্যাদি। মূলত: আর্থিক খাতে সংস্কারের ঢেউ দেখা দিয়েছিল ১৯৮০-এর দশক থেকে। তখনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ তাদের আর্থিক খাতকে সুসংহত করার জন্য ব্যাপকভাবে সংস্কার শুরু করে। তখন একীভূত ও অধিগ্রহণের মাধ্যমে ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ২০০১ সালে এক সমীক্ষায় বলেছিল, ১৯৮০ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংকের সংখ্যা ১২ হাজার ৩৩৩ থেকে কমে হয়েছিল ৭ হাজার ১২২টি। ইউরোপেও ব্যাংকের সংখ্যা কমানো হয়েছিল ব্যাপকভাবে। যেমন ১৯৮০ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে ফ্রান্সে ব্যাংক কমেছে ৪৩ শতাংশ, ডেনমার্কে ৫৭ শতাংশ। এশিয়ায় একীভূতকরণের ঢেউ শুরু হয়েছিল ১৯৯৭ সালের পূর্ব এশিয়ার আর্থিক সংকটের পর থেকে। পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় বাধ্যতামূলকভাবেই কাজটি করা হয়েছিল। তবে তা দুই বা তিন ব্যক্তির একতরফা সিদ্ধান্তে তা হয়নি।
সংখ্যা কমিয়ে ব্যাংক খাতের স্বা¯স্থ্য সবল করা, লোকসান হ্রাস এবং খেলাপি ঋণ ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবেই তা করা হয়েছিল। প্রতিটি দেশই তখন ব্যাংকগুলোর খারাপ সম্পদ ও খেলাপি ঋণ আলাদা করে তা ব্যব¯’াপনার জন্য অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন করেছিল। তারপরই সম্পন্ন হয়েছিল একীভূতকরণ। থাইল্যান্ড আলাদা সম্পদ ব্যব¯’াপনা কোম্পানি গঠন করা ছাড়াও দ্য ফাইন্যান্সিয়াল রিস্ট্রাকচারিং অ্যাডভাইজরি নামে একটি কমিটি গঠন করেছিল। দক্ষিণ কোরিয়ায় গঠন করা হয়েছিল ফাইন্যান্সিয়াল সুপারভাইজারি কমিশন। প্রত্যেকেই সফলভাবে কাজটি করেছিল। সফল হয়েছিল ইন্দোনেশিয়াও। ১৯৯৮ সালে দেশটি চারটি রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংককে একীভূত করে একটিতে রূপান্তরের ঘোষণা দেয়। এই চার ব্যাংকের খারাপ সম্পদ হস্তান্তর করা হয়েছিল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির কাছে। পুনর্গঠিত ব্যাংকের ঋণদান প্রক্রিয়া কেমন হবে, তা নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল জার্মানির ডয়েসে ব্যাংককে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাককিনসে রিটেইল বা খুচরা ব্যাংকিং ব্যবস্থা তৈরির দায়িত্বে ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডারসন কনসালটিংয়ের দায়িত্ব ছিল তথ্য ব্যবস্থাপনা ঠিকঠাক করা। আরেক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হে কনসালটিং লোকবল ব্যবস্থাপনা আর অগিলভি অ্যান্ড ম্যাথার ব্যাংকের ভাবমূর্তি ঠিক করার কাজটি করেছিল। একই সময়ে মালয়েশিয়া একটি সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৭১টি ব্যাংককে একীভূত করে ৬টি বড় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছিল। নাইজেরিয়াও বাধ্যতামূলক ব্যাংক একীভূতকরণের আরেকটি বড় উদাহরণ।
আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে ব্যাংকের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০টি কমিটি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৯১ সালে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়ার পর ভারত ব্যাংক খাতের সংস্কারের জন্য রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) সাবেক গভর্নর মাইদাভোলু নরসিমহামকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করেছিল। ১৯৯৮ সালে নরসিমহামকে প্রধান করে আবারও একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করা হয়। সেই কমিটি ব্যাংক একীভূত করার নীতিমালা তৈরি করে দেয়। ভারত যে এখনো ব্যাংক একীভূত করছে, তা নরসিমহাম কমিটির মৌলিক সুপারিশ মেনেই। এ কারণেই নরসিমহামকে বলা হয় ভারতের ব্যাংক সংস্কারের জনক। ভারতের ব্যাংক খাত আর কখনো সংকটে পড়েনি, সে কৃতিত্বও নরসিমহাম কমিটিকেই দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ বৃহৎ শিল্প, ব্যাংক ও বিমাশিল্প জাতীয়করণ করে। সে সময় ১২টি ব্যাংককে একীভূত করে ৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়। আশির দশকের শুরুতে উত্তরা ও পূবালী ব্যাংককে সাবেক বাংলাদেশি মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বেসরকারি খাতের ব্যাংকের অনুমতি দেওয়া হয়। যেমন- ২০০০ সালে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও এএনজেড গ্রিন্ডলেজ ব্যাংক স্ট্যানচার্ট গ্রিন্ডলেজ গঠনে এক হয়, পরে নামকরণ করা হয় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ। বর্তমানে বহুজাতিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের সবচেয়ে লাভজনক একটি উদ্যোগ। ২০০১ সালে ব্যাংক অব নোভা স্কটিয়ার ব্যবসায়িক কার্যক্রম অধিগ্রহণ করে ব্যাংক এশিয়া, বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে এ ধরনের প্রথম উদ্যোগ ছিল এটি। ব্যাংকটি মুসলিম কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের কান্ট্রি অপারেশনও গ্রহণ করে। বর্তমানে ব্যাংক এশিয়া দেশের অন্যতম সফল ব্যাংক।
পাকিস্তানি ব্যাংকার আগা হাসান আবেদি ১৯৭২ সালে ব্যাংক অব ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ইন্টারন্যাশনাল (বিসিসিআই) প্রতিষ্ঠা করেন। নানা অনিয়মের কারণে ১৯৯১ সালের ৮ জুলাই বহুজাতিক এ ব্যাংকটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর ব্যাংকটির বাংলাদেশ কার্যক্রম পুনর্গঠনের মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে গঠন করা হয় ইস্টার্ন ব্যাংক। তৎকালীন সরকারের সময়োপযোগী এই সিদ্ধান্তে বিসিসিআইয়ের বড় অংকের আমানতকারীরা হয়ে যান ইস্টার্ন ব্যাংকের মালিকানার অংশীদার। সরকারও ৬০ শতাংশ নিয়ে ব্যাংকটির পর্ষদে যুক্ত হয়। পরে ওই শেয়ার বিক্রি করে দেয় সরকার। আমানতকারী থেকে মালিকানার অংশীদার হওয়া পরিচালকেরা পরবর্তী সময়ে ইস্টার্ন ব্যাংককে দেশের আন্তর্জাতিক মানের ব্যাংকে রূপান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়।
দুর্বল ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়া
বাংলাদেশের আর্থিক বাজারে সম্প্রতি ব্যাংক একীভূতকরণের প্রক্রিয়াটি বেশ গুরুত্বসহকারে আলোচিত হ”েছ। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে এবং সামনে আরও কিছু ব্যাংক এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে যা”েছ। বলা হ”েছ যে সাম্প্রতিক সময়ে যেসব ব্যাংক আর্থিকভাবে অত্যাধিক দুর্বল হয়ে পড়েছে, তাদের রক্ষা করার জন্য আর্থিকভাবে সবল ব্যাংকগুলোর সঙ্গে তাদের একীভূতকরণ জরুরি ও কার্যকর একটি পদক্ষেপ।
দুর্বল ৫ শরীয়াহ ব্যাংকের একত্রীকরণ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পরিবর্তন হলে ব্যাংক খাত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একীভূতকরণ পরিকল্পনার আওতায় থাকা ব্যাংকগুলো হচ্ছে- এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক। সম্ভাব্য নাম হিসেবে ’ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’ বা ’আল ফাতাহ ব্যাংক’ এর মতো নাম শোনা যাচ্ছে, তবে চূড়ান্ত নাম এখনও ঘোষিত হয়নি। উল্লেখ্য, এক্সিম ব্যাংক ছিল নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে। বাকি চার ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ী এস আলমের হাতে। সীমাহীন দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার ফলে ব্যাংকগুলো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মে মাসে পাঁচ ব্যাংকের মোট আমানত ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা। ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪১৩ কোটি, যার মধ্যে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকভিত্তিক বিশ্লেষণে ইউনিয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৯৮ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটির ৯৬ শতাংশ, গ্লোবালের ৯৫ শতাংশ, এসআইবিএলের ৬২ শতাংশ এবং এক্সিম ব্যাংকের ৪৮ শতাংশ। সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে স্পষ্টতই বুঝা যাচ্ছে যে, ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা অতন্ত নাজুক পর্যায়ে আছে।
কিভাবে মার্জার সম্পন্ন হবে
নবগঠিত ব্যাংকের নামে শতভাগ সরকারি মালিকানায় নতুন শেয়ার ইস্যু করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গঠন করে দেওয়া হবে নতুন পরিচালনা পর্ষদ। নিয়োগ দেওয়া হবে নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইও। পাঁচ ব্যাংকের সমুদয় সম্পদ ও দায়দেনা হস্তান্তর করা হবে নতুন ব্যাংকের নামে অর্থাৎ পাঁচ ব্যাংকের সম্পদ হবে নতুন ব্যাংকের। বর্তমানে পাঁচ ব্যাংকের ৭৬০টি শাখা ও ৬৯৮টি উপশাখা রয়েছে। এর মধ্যে অনেক উপজেলায় এসব ব্যাংকের শাখা রয়েছে। সেক্ষেত্রে নতুন ব্যাংকের শাখা একই উপজেলায় একাধিক হতে পারে। এক্ষেত্রে সুবিধাজনক শাখাটি সংশ্লিষ্ট উপজেলায় রেখে অন্য শাখাগুলো আশপাশের উপজেলায় সরিয়ে নেওয়া হবে। একইভাবে যেসব শহরে কাছাকাছি ¯’ানে পাঁচ ব্যাংকের মাখা রয়েছে সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুবিধাজনক শাখাটি রেখে অন্য শাখাগুলো আশেপাশের কোথাও সরিয়ে নেওয়া হবে। এভাবে পাঁচ ব্যাংকের শাখা ও উপশাখাগুলোকে সমন্বয় করে লাভজনক অবস্থানে নিয়ে যাওয়া হবে।
মার্জারে কি সুবিধা পাওয়া যাবে
বৈদেশিক দেনা দ্রুত পরিশোধ করা হবে। আমানতকারীদের পুরো অর্থই ফেরত দেওয়া হবে পর্যায়ক্রমে। প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের নতুন ব্যাংকের শেয়ার দেওয়া হবে। আমানতকারীদের পুরো অর্থই ফেরত দেওয়া হবে। তা দেওয়া হবে পর্যায়ক্রমে। প্রয়োজনে ব্যাংকের আমানত তোলার ওপর মোরাটোরিয়াম বা সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে। পাশাপাশি ভালো ব্যবসা কেন্দ্র সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করছে। যাতে সহজেই নতুন ব্যাংকের নামে শাখাগুলোকে লাভজনক ¯’ানে ¯’ানান্তর করা সম্ভব হয়। এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চলমান থাকবে। আপাতত এজেন্ট ব্যাংকগুলোর সংশ্লিষ্ট এজেন্টরা যেসব শাখার তত্ত্বাবধানে থাকছেন সেখানেই থাকবেন। পরে সেগুলোকে সুবিধাজনকভাবে পুনর্ব্যনিাস করা হবে। নিচের স্তরের কোনো কর্মকর্তাকে ছাঁটাই করা হবে না। অনিয়ম-জালিয়াতিতে সম্পৃক্ততা নেই এবং নিয়ম মেনে স্ব”ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের চাকরির সুরক্ষা থাকবে। তাদের পদ বা কর্ম¯’ল পরিবর্তন হতে পারে। নতুন ব্যাংক পাঁচ ব্যাংকের সম্পদ বিশেষ করে শাখাগুলোতে ঢেলে সাজানো হবে।
একীভূতকরণের আদেশ জারির সঙ্গে সঙ্গে পাঁচ ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সব শেয়ার বাজেয়াপ্ত করা হবে। শেয়ারের বিপরীতে উদ্যোক্তাদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না। কারণ ব্যাংকের নিট সম্পদ এখন নেগেটিভ। যে কারণে শেয়ারের বিপরীতে কোনো সম্পদ নেই। উলটো আরও লোকসানে রয়েছে। যে কারণে উদ্যোক্তারা শেয়ারের বিপরীতে কোনো কিছুই পাবেন না। তবে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের কিছুটা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, পাঁচ ব্যাংক একীভূত হওয়ার পর তা একটি শক্তিশালী ইসলামি ব্যাংক হিসেবে আবির্ভূত হবে। বিদ্যমান যে কোনো শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের চেয়ে তা বড় হবে। আর্থিক অব¯’ার উন্নয়ন ঘটবে, গ্রাহকরা ফিরে পাবেন তাদের আমানত। একীভূত হওয়ার পর এনপিএল (নন পারফর্মিং লোন) বড় থাকবে, সেটা তো ওভারনাইট শেষ হয়ে যাবে না। ওটা আস্তে আস্তে কমতে থাকবে। নতুন ডিপোজিট বাড়তে বাড়তে তা ছোট হয়ে যাবে। একীভূত হওয়ার দুই থেকে তিন বছরের মধ্যই চেষ্টা করব বেসরকারিকরণ করতে। যেসব খেলাপি ঋণ আছে, সেগুলোর ভ্যালু থাকলে প্রতিষ্ঠান (অ্যাসেট কোম্পানি) কিনে নিতে পারবে। আর না হলে রাইট অফ (অবলোপন) করতে হবে।
মার্জার সংক্রান্ত ব্যয়
নতুন ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার থেকে জোগান দেওয়া হবে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে আমানত বিমা তহবিল থেকে আসবে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। বাকি ৩ হাজার কোটি টাকা আসবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে কোনো মূলধন জোগান দেওয়া হবে না। তবে নতুন নামে ব্যাংক চালু হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণের জোগান দেওয়া হবে। এছাড়া নীতি সহায়তা দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
শেষ কথা
অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, সরকারের নেওয়া উদ্যোগ সফল হলে তা ব্যাংকিং খাতের জন্য ইতিবাচক ও উদাহরণ হিসাবে কাজ করবে। অনেক বিশেষজ্ঞ পাঁচ ব্যাংক মিলে একটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক গঠনের উদ্যোগকে তত্ত্বীয় বিষয় হিসেবে দেখছেন। পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিশ্বের অনেক দেশ একীভূতের উদ্যোগ নিয়ে বিফল হলেও অনেক দেশ কিš‘ সফল হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যাংকিটি কতটা স্ব”ছতা, দুর্নীতিমুক্ত, দক্ষ ও সুশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হয় সেটাই দেখার বিষয়।
লেখক: ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক
ইমেইল:থসধংঁস@ুধযড়ড়.পড়স

Facebook Comments Box

Posted ৮:১৪ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

Arthobiz |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক : অহিদুজ্জামান মিঞা
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: খান ম্যানশন, ৮-ই, ২৮/এ-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ইমেইল: arthobiz61@gmail.com
যোগাযোগ: 01670045191