| বৃহস্পতিবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | প্রিন্ট | 187 বার পঠিত

অহিদুজ্জামান মিঞা :
বীমা কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের (বিআইএ) নির্বাহী কমিটির নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা আজ প্রকাশ করা হয়েছে। মনোনয়ন পত্র জমাদানকারি মোট ৩৫ জন প্রর্থীর মধ্যে আজ ৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এর মধ্যে লাইফ বীমার ৫ জন এবং নন-লাইফ বীমার ২ জন প্রার্থী রয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ছিল মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহরের শেষ দিন। এ দিনে দুপুর ৩টার মধ্যেই তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। বিআইএ’র নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
লাইফ বীমায় মোট ১৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করায় বাকী ৯ জন প্রার্থী রয়েছেন। এ খাতে ১০টি পদের বিপরিতে ৯ জন প্রার্থী থাকায় তাদের সকলেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। নন-লাইফে ২ জনের মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় এ খাতে মোট প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১৯ জন। ফলে নন-লাইফের ১০টি নির্বাহী সদস্য পদে ভোট হবে। লাইফ খাতে ৫ জন প্রার্থীতা প্রত্যাহার করায় ১টি পদ থাকছে। এ পদটি শূন্য থাকায় ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হচ্ছে না। ২৫ ফেব্রুয়ারি শূন্য সদস্য পদে ভোট হবে। এ বিষয়ে আজ আবার নতুন করে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এই শূন্য সদস্য পদে নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ কারনে পূর্বের তফসিল কিছুটা পরিবর্তন করে ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা লাইফ বীমার ৫ প্রার্থীরা হলেন, প্রোগ্রেসিভ লাইফের ভাইস চেয়ারম্যান বজলুর রশীদ, বেস্ট লাইফের পরিচালক সৈয়দ বদরুল আলম, চার্টার্ড লাইফের মুখ্য নির্বাহী এসএম জিয়াউল হক, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফের মুখ্য নির্বাহী মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন এবং রূপালী লাইফের মুখ্য নির্বাহী মো. গোলাম কিবরিয়া। নন-লাইফ বীমা খাত থেকে রূপালী ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক মোস্তফা কামরুস সোবহান এবং প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান মো. মফিজুর রহমান মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন । এর ফলে এখন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারি প্রার্থী হলেন মোট ২৮ জন। বিআইএ’র নির্বাহী কমিটির ২০টি পদের বিপরিতে এখন এই ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি বিআইএ’র ২০২৫-২০২৬ সালের নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গত ২২ জানুয়ারি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আজ বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন।
লাইফ বীমার নির্বাহী সদস্য পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা হলেন, সন্ধানী লাইফের চেয়ারম্যান মুজিবুল ইসলাম, ফারইস্ট ইসলামী লাইফের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, বেঙ্গল ইসলামি লাইফের ভাইস চেয়ারম্যান আমিন হেলালী, ডেল্টা লাইফের পরিচালক আদিবা রহমান, এনআরবি ইসলামিক লাইফের পরিচালক আরিফ সিকদার, পপুলার লাইফের মুখ্য নির্বাহী বি এম ইউসুফ আলী, প্রগতি লাইফের মুখ্য নির্বাহী জালালুল আজিম, জেনিথ ইসলামি লাইফের মুখ্য নির্বাহী এস এম নুরুজ্জামান এবং ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী মো. কাজীম উদ্দিন।
নন-লাইফ বীমা খাতের প্রার্থীরা হলেন, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান কাজী শাখাওয়াত হোসেইন লিন্টু, সিটি ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান হোসেইন আখতার, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান সাঈয়্যেদ আহমেদ, প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেইন, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের ভাইস চেয়ারম্যান কে এম আলমগীর, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্সের ইনভেস্টমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন জামাল, বাংলাদেশ ন্যাশনালের পরিচালক তায়েফ বিন ইউসুফ, জনতা ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক বেলাল আহমেদ, এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী ইমাম শাহীন, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী আহমেদ সাইফুদ্দীন চৌধুরী, গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী ফারজানা চৌধুরী, বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী মো. নূর-ই-আলম সিদ্দিকী, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী এএনএম ফজলুল করিম মুন্সি, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী ড. এ কে এম সরোয়ার জাহান জামিল, ইসলামি কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কাজী মোকাররম দস্তগীর, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী হাসান তারেক, সাউথ এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী মোহাম্মদ নুরুল আলম চৌধুরী এবং স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী মো. আব্দুল মতিন সরকার।
বিআইএ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর বিআইএ’র ২০২৫-২০২৬ সালের নির্বাহী কমিটির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। এ বছর মোট ভোটার হয়েছেন ৭৬ জন। এসোসিয়েশনের মোট সদস্য সংখ্য ৮০ টি কোম্পানি। চাঁদা পরিশোধ সাপেক্ষে প্রতিটি বীমা কোম্পানি থেকে ১ জন করে ভোটার হয়েছেন। ৪ টি বীমা কোম্পানি থেকে কোন ভোটার হয়নি। এই বীমা কোম্পানিগুলো হচ্ছে, পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, স্বদেশ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও বয়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ি ১৪ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেয়া হয়। ২২ জানুয়ারি বিকেল ৩ টায় মনোনয়ন পত্র বাছাই এবং এ দিনে বিকেল ৫ টায় বৈধ মনোনয়ন পত্রের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ২৩ জানুয়ারি দুপুর ১ টার মধ্যে আপীল বোর্ডে বৈধ মনোনয়ন পত্রের ব্যাপারে আপত্তি জানানোর সময় ছিল। তবে এসয়ের মধ্যে কোন আপত্তি জমা পড়ে নাই। ৩০ জানুয়ারি শুনানি করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে বিকেল ৫ টার মধ্যে চূড়ান্ত বৈধ মনোনয়ন পত্রের তালিকা প্রকাশ করার কথা। ৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩ টার মধ্যে সদস্য পদে প্রার্থীতা প্রত্যাহার এবং এ দিনে বিকেল ৪ টার মধ্যে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৪ টা পযর্ন্ত একটানা ভোট গ্রহন করা হবে। ্এ দিনেই বিকেল ৪ টার পর ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩ টা পযন্ত প্রেসিডেন্ট, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করা যাবে। ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২ টায় এসোসিয়েশনের নির্বাহী কমিটির প্রেসিডেন্ট, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ দিন বিকেল ৪ টায় প্রেসিডেন্ট, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
এর আগে ৭ নভেম্বর বিআইএ’র কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংগঠনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠকে নির্বাহী কমিটির ২০২৫-২০২৬ সালের নির্বাচনের তফসীল চূড়ান্ত করা হয়। ঘোষিত তফসীল অনুযায়ি ২২ ফেব্রুয়ারি এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান মীর নাসির হোসেন। এর আগে ২৮ অক্টোবর সংগঠনটির ২১৮তম নির্বাহী কমিটির সভায় নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড এবং নির্বাচনী আপীল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স-বাংলাদেশের পরিচালক এবং এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন এবং সদস্যরা হলেন এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেস কোম্পানির চেয়ারম্যান ও আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি আফতাব উল ইসলাম এবং কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান ও বিআইএ’র সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট নিজাম উদ্দিন আহমেদ।
একই সভায় নির্বাচনী আপীল বোর্ডও গঠন করা হয়। আপীল বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান এ কে এম আজিজুর রহমান। সদস্যরা হলেন, সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শফিক শামিম এবং আস্থা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহ সগিরুল ইসলাম।
জানা যায়, ২০১১ সালে প্রথম বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ)’র প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হন শেখ কবির হোসেন। সেই থেকে দীর্ঘ সময় তিনি এ পদটি আকড়ে ধরে রেখে ছিলেন। পরবর্তীতে সরাসরি ভোটে কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। নিজেরা পছন্দের লোকদের নিয়ে কমিটি ঘোষণা করেছেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহীদের কাছ থেকে আগেই প্রত্যাহার পত্র নিয়ে নিতেন। মোটাদাগে বলা যায় এখানেও নির্বাচনের নামে প্রহসন করা হয়েছে। এ বছর পরিবেশ পরিস্থিতি ভিন্ন মনে হচ্ছে। সরাসরি ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠনের পক্ষে অধিকাংশ সদস্য। ৮২ বছর বয়সী শেখ কবির হোসেন শেখ মুজিবুর রহমানের চাচাতো ভাই। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচা। এছাড়াও তিনি ছিলেন গোপালগঞ্জ জেলা সমিতির সভাপতি। এ পরিচয়ে তিনি বীমা মালিকদের সংগঠন বিআইএ’সহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষপদ আকড়ে ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার পলায়ন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ২১ অক্টোবর বিআইএ’র প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করেন শেখ কবির হোসেন।
বিআইএ’র বর্তমান নির্বাহী কমিটির ২০২৩-২০২৪ মেয়াদ শেষ হবে ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল। তবে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে সংগঠনের প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন পদত্যাগ করায় প্রথম ভাইস-প্রেসিডেন্ট নাসির উদ্দিন আহমেদ (পাভেল) অবশিষ্ট সময়ের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। গত ২৮ অক্টোবর সংগঠনে ২১৮তম নির্বাহী কমিটির সভায় তিনি এ দায়িত্ব পান। তিনি বর্তমান নির্বাহী কমিটির বাকি সময় দায়িত্ব পালন করছেন।
Posted ৫:৫১ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
Arthobiz | zaman zaman


