শনিবার ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধেও সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা

  |   সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   17 বার পঠিত

২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধেও সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা

অর্থবিজ প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ ব্যাংক উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধেও (জানুয়ারি-ুজুন) সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ।
আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। ঘোষিত নীতিতে নীতিনির্ধারণী সুদহার (পলিসি রেট) ১০ শতাংশে এবং স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ দশমিক ৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য ব্যবস্থাপনায় গতি আনতে স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) সুদহার ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৮ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকবলেছে, নীতিসুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধান কারণ হলো এখনো উচ্চ অবস্থানে থাকা মূল্যস্ফীতি। নির্বাহী সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমলেও মূল্যস্ফীতি এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৭ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে। বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকলেও সরবরাহ সংকট, কাঠামোগত দুর্বলতা ও বাজারের অদক্ষতার কারণে মূল্যস্ফীতি কমার গতি ধীর।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এ মুহূর্তে নীতিসুদহার কমালে টাকার ওপর চাপ বাড়তে পারে এবং আমদানি-নির্ভর মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আবারও উসকে উঠতে পারে। সামনে জাতীয় নির্বাচন, রমজান মাস এবং নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সম্ভাবনায় অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
কঠোর মুদ্রানীতি, সরকারি ঋণ চাহিদা বৃদ্ধি ও বিনিয়োগে অনিশ্চয়তার কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকারের বেশি ঋণ গ্রহণের ফলে ‘ক্রাউডিং আউট’ প্রভাব তৈরি হয়েছে, যা বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জন্য স্বল্পমূল্যের ঋণপ্রাপ্তি কঠিন করে তুলছে।
তবে এসডিএফ সুদহার কমানোর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অর্থ জমা না রেখে আন্তঃব্যাংক বাজার ও উৎপাদনমুখী খাতে ঋণ দিতে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বড় অঙ্কের মূলধন পাচারের ফলে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট দেখা দেয়। তবে ২০২৫ সালে আমানত প্রবৃদ্ধি ঘুরে দাঁড়ায়। ২০২৪ সালের আগস্টে যেখানে আমানত প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ শতাংশের নিচে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ তা বেড়ে প্রায় ১১ শতাংশে পৌঁছেছে।
তবে আমানত পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি ‘ফ্লাইট টু কোয়ালিটি’ প্রবণতাও বেড়েছে। আমানতকারীরা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ব্যাংকগুলোতে অর্থ স্থানান্তর করছেন। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ৩৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে, যা কঠোর হিসাব ও শ্রেণিকরণ নীতির ফল বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মুদ্রানীতিতে উল্লেখ করা হয়, বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ২০২৪ সালে সৃষ্ট ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের পরিশোধ বকেয়া নিষ্পত্তির মাধ্যমে বিদেশি ব্যাংক ও ঋণদাতাদের আস্থা ফিরেছে। প্রবাসী আয়ের শক্তিশালী প্রবাহে চলতি হিসাব ঘাটতি থেকে উদ্বৃত্তে পরিণত হয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বেড়ে ৩৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি না করে বরং আন্তঃব্যাংক বাজার থেকে ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার কিনেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ২০২৫ সালের মে মাস থেকে পুরোপুরি বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থা চালু রয়েছে। একই সঙ্গে কৃষি ও কুটির, ক্ষুদ্র, মাঝারি শিল্প (ঈগঝগঊ) খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়াতে প্রভিশনিং শর্ত কিছুটা শিথিল করা হয়েছে।
খেলাপি ঋণ কমাতে ও সুশাসন জোরদারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। প্রভিশন ঘাটতি থাকলে কোনো ব্যাংক লভ্যাংশ দিতে পারবে না এবং লোকসানি ব্যাংকে কর্মকর্তাদের বোনাসও স্থগিত থাকবে।
গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, “মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফেরানো এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরির জন্য আপাতত কঠোর নীতিই সবচেয়ে উপযোগী।”

Facebook Comments Box

Posted ৭:২৯ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Arthobiz |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক : অহিদুজ্জামান মিঞা
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: খান ম্যানশন, ৮-ই, ২৮/এ-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ইমেইল: arthobiz61@gmail.com
যোগাযোগ: 01670045191