শনিবার ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ-পাকিস্তান অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

  |   বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   130 বার পঠিত

বাংলাদেশ-পাকিস্তান অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

এম এ মাসুম :
দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে আবারও আলোচনার টেবিলে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক। সাম্প্রতিক পাকিস্তানের দুই শীর্ষ মন্ত্রীর সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সবশেষ ২০০৫ সালের ১২-১৩ সেপ্টেম্বর দুই দেশের মধ্যে জেইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকায় অনুষ্ঠিত ওই সভায় পাকিস্তানের বাজারে শতাধিক পণ্যে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা চেয়েছিল বাংলাদেশ। অন্যদিকে পাকিস্তান চেয়েছিল মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ)। ২০০৫ সালের পর জেইসির আর কোনো সভা হয়নি। বিশেষ করে গত আওয়ামী লীগ শাসনামলের ১৬ বছরে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেকটা দূরত্ব বজায় রাখা হয়।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক অন্য সব দেশের মতো নয়। কারণ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী নির্বিচার হত্যা, নারী নির্যাতনসহ নানান মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছিল। তাই পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক কখনোই কেবল কূটনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে সীমাবদ্ধ নয়, এর পেছনে রয়েছে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ইতিহাস ও বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা। ফলে এই সম্পর্ক স্বাভাবিক হলেও তা অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের মতো সরল নয়।
বাংলাদেশে ২০২৪ সনের ৫ আগষ্ট গণ-অভ্যত্থানের মুখে রাজনীতির পালাবদল এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের চরম অবনতি যখন হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান নতুন সম্পর্ক দৃশ্যমান হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পর্ক যেহেতু কোনোভাবে টিকে রয়েছে, আবার সম্পর্ক ভালো করার কোনো আগ্রহও ভারত দেখাচ্ছে না। বিশ্লেষকগণ মনে করছেন, সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টির কোনো বার্তা দেওয়ার কৌশল বাংলাদেশের থাকতে পারে। অন্যদিকে, পাকিস্তানও ভারতকে ঘিরে বাংলাদেশ প্রশ্নে নতুন কৌশল নিয়ে থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তারা বলছেন, দীর্ঘ সময় পর ভারতের বলয়ের বাইরের এসেছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ অঞ্চলে বেশিরভাগ দেশের ওপর ভারতের প্রভাব এখন হ্রাস পেয়েছে। সেই তালিকায় এখন বাংলাদেশও এসেছে। আর এই সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে জোরালো সম্পর্ক গড়ে এ অঞ্চলে ভারতের প্রভাব আরও কমানো পাকিস্তানের লক্ষ্য হতে পারে। ভূ-রাজনীতি আরও বড় পরিসরে যদি দেখা হয়, তাতে দেখা যায়, পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক পুরোনো এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও সম্পর্ক ভালো হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কের চাপের মুখে ভারত চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার পথে হাঁটছে। সেসাথে রাশিয়া, চীন, ভারত এখন কাছাকাছি এসেছে। এই তিন দেশের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে ভূ-রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ হচ্ছে কি না, সেদিকেও সবার নজর রয়েছে। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের পেছনে দেশ দুটির কোনো কৌশল থাকলেও ভূ-রাজনীতির বর্তমান বাস্তবতায় তা কতটা কাজ করবে, সেই প্রশ্ন রয়েছে বিশ্লেষকদের।
আমরা পৃথিবীর ইতিহাসে তাকালে দেখতে পাই, যারা একসময় একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল, তারাও পরবর্তী সময় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে সম্পর্ক পুনর্গঠন করেছে। উদাহরণ স্বরূপ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র জাপানের ওপর দুটি পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করেছিল; কিন্তু আজ তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। একইভাবে জার্মানি ও ইউরোপের অন্যান্য দেশ যারা যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ ছিল, তারা যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে একসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো কাঠামো গড়ে তুলেছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের তিক্ত ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনামের মধ্যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। অর্থাৎ যুদ্ধ মানেই যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থায়ীভাবে ছিন্ন হয়ে যাবে-এমন কোনো নিয়ম আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নেই। বরং রাষ্ট্রগুলো নিজেদের স্বার্থ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ কৌশলগত সুবিধা অর্জনের জন্য সম্পর্ক পুনর্নির্মাণের পথ খোঁজে এবং বহুমাত্রিক সহযোগিতায় এগিয়ে যায়।
দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে আবারও আলোচনার টেবিলে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক। সাম্প্রতিক পাকিস্তানের দুই শীর্ষ মন্ত্রীর সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ২১ আগস্ট পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী ঢাকায় এসে চার দিনের সফরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে নানা কর্মসূচিতে অংশ নেন। তার ঠিক পরেই ২৩ আগস্ট পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসেন এবং বাংলাদেশি নীতিনির্ধারক ও রাজনীতিবিদদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব সফরে শুধু বৈঠকই হয়নি, বরং কূটনীতি, বাণিজ্য ও সংস্কৃতি বিনিময় জোরদারের লক্ষ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। দীর্ঘ শীতলতার পর এমন তৎপরতা ইঙ্গিত দি”েছ, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক হয়তো এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যা”েছ। মূলত চব্বিশের আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে পাকিস্তান থেকে জাহাজভর্তি মালামাল বাংলাদেশে আসা শুরু হয় এবং আরও নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল।
পাকিস্তান অর্থনৈতিক সহায়তার ক্ষেত্রে খুব বেশি কিছু দিতে পারবে বলে মনে হয় না। বাংলাদেশ একটি ৪৫০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি, যা (২০২৪ সালের আগে) ৬% বা তারও বেশি হারে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। পাকিস্তান, যার জনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ এবং ভৌগোলিক আয়তন পাঁচ গুণেরও বেশি, তার জিডিপি মাত্র ৩৭৪ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাজারে পাকিস্তানের তুলনায় বেশি পণ্য রপ্তানি করে (৫৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের, যেখানে পাকিস্তানের রপ্তানি ৪০ বিলিয়ন ডলার)। প্রকৃতপক্ষে, অর্থনৈতিক সূচক থেকে শুরু করে সকল সামাজিক উন্নয়ন সূচকেই বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছে। একমাত্র যে ক্ষেত্রে পাকিস্তান বাংলাদেশের সমান অবস্থানে রয়েছে তা হলো ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতি সূচকে। বাণিজ্য এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে বাংলাদেশ এগোতে চায়, মূলত কারণ বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ দেশের সমৃদ্ধির সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা। পাকিস্তান কখনওই শক্তিশালী বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল না এবং এমনকি ৩ বিলিয়ন ডলারের সামান্য লক্ষ্যও পূরণ হবে কি না তা এখনো অনিশ্চিত।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে পাকিস্তান বাংলাদেশে মাত্র ৭৭৮.১১ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে নগণ্য ৪৬ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। বাংলাদেশ মূলত উন্নত বিশ্বে পণ্য রপ্তানির দিকে মনোযোগী, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। ভারত ও চীন বাংলাদেশের প্রধান আমদানিকারক দেশ। এই প্রেক্ষাপটে, পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য বা বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব খুবই সীমিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
দুদেশের মধ্যে ব্যাপক বাণিজ্য সম্ভাবনা লক্ষ্য করা যা”েছ। বাংলাদেশের সামনে রয়েছে পোশাক খাত, ফার্মাসিউটিক্যালস, পাটজাত দ্রব্য এবং সিরামিক রপ্তানির সুযোগ। অপর দিকে পাকিস্তান থেকে আসতে পারে তুলা, সুতা, ক্লিংকার, রাসায়নিক ও কাগজজাত পণ্য। সাম্প্রতিক সময়ে সরাসরি শিপিং লাইন চালুর ফলে করাচি-চট্টগ্রাম পোর্টের মধ্যে ট্রানজিট সময় ১১ দিনে নেমে এসেছে, যা উভয় দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এই পটভূমিতে ২২ আগস্ট দুই দেশের মধ্যে ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার একটি পদক্ষেপ। দুদেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য সম্পর্ক থাকলেও সাফটা এবং ডি-৮ পিটিএ কার্যকর করার পাশাপাশি উভয়দেশের মধ্যে ননট্যারিফ বাধাসমূহ হ্রাস করা, বিটুবি সংযোগ উৎসাহিত করার মাধ্যমে বাণিজ্য বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ আকর্ষণ সম্ভব।
কানেকটিভিটির ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা উন্মোচিত হচ্ছে। সরাসরি শিপিং লাইন চালুর পর এবার দুই দেশের মধ্যে ঢাকা-করাচি বা ঢাকা-লাহোর রুটে সরাসরি বিমান যোগাযোগ আবার চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশের প্রস্তাব ইতিমধ্যেই আলোচনায় এসেছে, যা ভবিষ্যতে সাধারণ ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসাসহজীকরণের পথ খুলে দিতে পারে। এসব উদ্যোগের ফলে শুধু ব্যবসায়িক সহযোগিতাই নয়, জনগণের পার¯পরিক যাতায়াতও বৃদ্ধি পাবে।
পাকিস্তানের ব্যবসায়ীদের সংগঠন পাকিস্তান বিজনেস কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে যেসব পণ্য রফতানি হয় তার একটি বড় অংশই হলো সুতা। এছাড়া লবণ, সালফার, বিভিন্ন রকম পাথর ও সিমেন্ট, সবজি ও ফল, চামড়া, বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ, রাসায়নিক দ্রব্য, রং জাতীয় পণ্য আসে। আর বাংলাদেশ থেকে যেসব পণ্য পাকিস্তানে যায় তার মধ্যে রয়েছে পাট ও টেক্সটাইল পণ্য, কাগজ, মেডিক্যাল পণ্য।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তান উভয়ই রপ্তানির ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইলের ওপর নির্ভরশীল। তাই দুই দেশকেই রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জোর দেওয়া প্রয়োজন। সিমেন্ট, চিনি, জুতা, চামড়া প্রভৃতি খাতে পাকিস্তান বেশ ভালো করছে এবং বাংলাদেশ চাইলে পাকিস্তান থেকে এসব পণ্য আমদানি করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ওষুধ খাতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা পাকিস্তানের জন্য বেশ কার্যকর হতে পারে।

বাংলাদেশ বিশ্বের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর অন্যতম। আর পোশাক শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল, তুলা ও সুতার উৎস পাকিস্তান। ফলে পাকিস্তান থেকে এসব কাঁচামাল তুলনামূলকভাবে কম খরচে আসতে পারে বাংলাদেশে। পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের বড় সুবিধা হলো বাংলাদেশ বর্তমানে পাকিস্তান থেকে টেক্সটাইল, সুতা ইত্যাদি কাঁচামাল আমদানি করছে, যেগুলো আমাদের রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য প্রয়োজন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ প্রতিবছর ৮০ বিলিয়ন ডলার আমদানি করে, যার মধ্যে ১৫ বিলিয়ন ডলারের খাদ্য ও মধ্যবর্তী পণ্য। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে এসব পণ্য বাণিজ্য বাড়ানোর সুযোগ আছে। আর সেটা খতিয়ে দেখার জন্য যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন বা জেইসি গঠন করা হচ্ছে। জানা যায়, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের ওপর পাকিস্তানের আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের সঙ্গে বৈঠক করেন পাকিস্তানের বানিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান। বৈঠকে শিল্প উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি ও পার¯পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এরইমধ্যে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের চিনি শিল্পের উন্নয়নে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা বৈঠকে জানানো হয়। এ সময় পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী দুই দেশের শিল্পের উন্নয়ন, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাকিস্তানের আগ্রহের কথা জানান। পাকিস্তানে এক কোটি কেজি চা শুল্ক ও কোটামুক্ত রপ্তানি এবং আনারসসহ বিভিন্ন ফল রপ্তানির সুযোগ চেয়েছে বাংলাদেশ। সেইসাথে পাকিস্তানের চামড়া ও চিনি শিল্প নিয়েও আলোচনা করার কথা জানান তিনি। কারণ এই দুই শিল্পে পাকিস্তান বেশ এগিয়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন, পাকিস্তান থেকে আমরা বেশি আমদানি করি, আর কম রপ্তানি করি। এই ব্যবধান যদি কমানো যায়, সেটি বাংলাদেশের জন্য লাভজনক হবে।
লেখক: ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক।

 

Facebook Comments Box

Posted ৬:৫৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

Arthobiz |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক : অহিদুজ্জামান মিঞা
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: খান ম্যানশন, ৮-ই, ২৮/এ-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ইমেইল: arthobiz61@gmail.com
যোগাযোগ: 01670045191