| শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট | 31 বার পঠিত

অর্থবিজ বাণিজ্য ডেস্ক :
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন । নতুন ঘোষিত এ শুল্ক বর্তমানে কার্যকর ৩০ শতাংশের সঙ্গে যুক্ত হবে, যা কার্যকর হবে আগামী ১ নভেম্বর বা তার আগেও। খবর সিএনএন।
নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে শুক্রবার ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর বর্তমানে থাকা সব শুল্কের সঙ্গে আরো ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে। এছাড়া ১ নভেম্বর থেকে গুরুত্বপূর্ণ সব সফটওয়্যারের রফতানিতেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে।
চীনের বিরল খনিজ রফতানিতে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের প্রতিক্রিয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। এ ঘোষণা দেয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকটিও বাতিল করা হয়েছে।
শুক্রবার ট্রাম্পের ঘোষণার পর মার্কিন শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নেমে আসে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করতে থাকেন, গত বসন্তে দেখা দেয়া ১৪৫ শতাংশ শুল্কের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। এর প্রভাবে ডাও জোন্স সূচক ৮৭৮ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে বন্ধ হয়। এছাড়া এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ২ দশমিক ৭ শতাংশ ও প্রযুক্তিখাতনির্ভর নাসডাক সূচক ৩ দশমিক ৫ শতাংশ নিচে নামে।
যদিও অতীতে একাধিকবার হুমকি দিলেও তা বাস্তবায়ন করেননি ট্রাম্প। তবু এ শুল্ক ঘোষণা নিয়ে বিনিয়োগকারী, ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পরস্পরের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে মেক্সিকো যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান আমদানি উৎসে পরিণত হয়েছে, তবুও চীনা পণ্যের ওপর আমেরিকার নির্ভরতা রয়েই গেছে। একইভাবে চীনও আমেরিকাকে তার অন্যতম বড় রফতানি বাজার হিসেবে দেখে। ইলেকট্রনিক্স, পোশাক ও আসবাবপত্র—এ তিন খাতের পণ্যই চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি রফতানি হয়।
গত মে মাসে দুই দেশ পারস্পরিক শুল্ক কিছুটা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। চীন মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক ১২৫ শতাংশ থেকে নামিয়ে ১০ শতাংশ করে, আর যুক্তরাষ্ট্র ১৪৫ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৩০ শতাংশ করে। এর ফলে দুই দেশের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল।
শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু কাল
বিশেষ প্রতিনিধি :
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন জনের বিরুদ্ধে চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট ) উপস্থাপন করা হবে আগামীকাল। কয়েকদিনের যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শেষ হলেই মামলাটি রায়ের পর্যায়ে পৌঁছাবে।
গত বুধবার এই মামলার শেষ সাক্ষী (৫৪ তম) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার মো. আলমগীরের জেরা শেষে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য কাল রোববার দিন ধার্য করেন।
ঐতিহাসিক এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীক শহীদ আবু সাঈদের পিতাসহ স্বজনহারা পরিবারের অনেকে। এছাড়া স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া নাহিদ ইসলাম এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। সর্বমোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ৫৪ জন সাক্ষী।
এই মামলায় প্রসিকিউসন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এসএইচ তামিম শুনানি করছেন। সেই সঙ্গে অপর প্রসিকিউটররা শুনানিতে উপস্থিত থাকেন। পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন।
এই মামলায় গ্রেফতার হয়ে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে আছেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এক পর্যায়ে এই মামলায় দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে (অ্যাপ্রোভার) রাজসাক্ষী হতে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের আবেদন মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল।
পরবর্তীতে এই মামলার রাজসাক্ষী হয়ে সাক্ষ্য দেন পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। এই মামলা ছাড়াও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আরও দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে গুম-খুনের ঘটনায় তাকে আসামি করা হয়েছে। অন্য মামলাটি হয়েছে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়।
গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, এর দলীয় ক্যাডার ও সরকারের অনুগত প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে বলে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ে।
Posted ৬:৪৯ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
Arthobiz | zaman zaman


