শুক্রবার ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামি বিমা শিল্পে সফল উদ্যোক্তা তৈরীতে বেঙ্গল ইসলামি লাইফের ভূমিকা

  |   সোমবার, ১২ আগস্ট ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   111 বার পঠিত

ইসলামি বিমা শিল্পে সফল উদ্যোক্তা তৈরীতে বেঙ্গল ইসলামি লাইফের ভূমিকা

মোহাম্মদ আলমগীর কবির :
বেঙ্গল ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লি. একটি চতুর্থ প্রজন্মের ইসলামি জীবন বিমাকারী প্রতিষ্ঠান যাকে আমরা ইসলামি পরিভাষায় তাকাফুল কোম্পানি বলে থাকি। ২০১৩ সালে অনিবাসী বাংলাদেশী উদ্যোক্তাদের উদ্যোগে এনআরবি গ্লোবাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড নামে এর যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ইসলামি অর্থ ব্যবস্থা তথা জীবন বিমার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালের শেষ প্রান্তিকে বেঙ্গল ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লি. নামে শরি’আহ্ ভিত্তিক তাকাফুল কোম্পানি হিসেবে এই কোম্পানিটি নবযাত্রা শুরু করে।
দেশের ইসলামি অর্থ ব্যবস্থায় একটি ব্যতিক্রমি সংযোজন হলো বেঙ্গল ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। প্রচলিত ইসলামি জীবন বিমার মডেলের বাহিরে গিয়ে ওয়াকালা-মুদারাবা হাইব্রিড মডেলটি তার ব্যবসায়িক মডেল হিসেবে গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি দেশে ইসলামি বিমার ক্ষেত্রে একটি নতুন ধারা সংযোজন করতে সক্ষম হয়।

বেঙ্গল ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লি.-এর অফিস এবং মাঠ পর্যায়ে কয়েক হাজার কর্মী এই নতুন মডেলটি সানন্দে গ্রহণ করে সফলতার সাথে তাদের ব্যবসায়িক উন্নয়ন ঘটিয়ে চলেছে। জীবন বিমা এমন একটি ব্যবসা যার সাথে এজন্সির মাধ্যমে যুক্ত হয়ে প্রত্যেকটি উন্নয়ন কর্মী হয়ে উঠেন একজন স্বতন্ত্র উদ্যোক্তা। প্রতিটি বিমা এজেন্সি একটি স্বতন্ত্র সত্তা যা মূল প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অনেকাংশেই স্বাধীনভাবে কাজ করে থাকে। মূল কোম্পানির নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সে নিজেই নিজের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করে থাকে। যার জন্য জীবন বিমা পেশাকে একটি স্বাধীন পেশাও বলা হয়ে থাকে। যেহেতু জীবন বিমা একটি শ্রমঘন শিল্প সেহেতু এই পেশায় কাজ করে লক্ষ্য লক্ষ্য বিমাকর্মী দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নিজেদের স্বপ্নও বাস্তবায় করতে পারছেন।

বেঙ্গল ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কিভাবে হাজার হাজার উদ্যোক্তা তৈরী করছে সে বিষয়ে আলোকপাত করা যাক। একজন বিমা কর্মী জীবন বিমার এজেন্সিতে কাজ করার অর্থাৎ বিমা বিপণন করার মাধ্যমে মানুষের মাঝে জীবন বিমা/তাকাফুল সেবা পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে ওয়াকালা ফি গ্রহণ করেন। এই কাজটি তিনি স্বাধীনভাবেই করে থাকেন। এছাড়াও সংগঠন সৃষ্টি কিংবা বৃদ্ধি করার জন্য জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের কাজটিও তাঁকে করতে হয়। এখানে তিনি একাধারে ব্যবসা বৃদ্ধি এবং সংগঠন তৈরীরতে নিজস্ব দক্ষতা ও প্রজ্ঞার প্রয়োগ ঘটিয়ে থাকেন। জীবন বিমা শিল্পের একজন উদ্যোক্তা হিসাবে তিনি তাঁর ব্যবসা স্থাপন, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স অর্জন, কর্মীদের নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণ, পরিষেবা বিপণন এবং এজেন্সির প্রতিদিনের ক্রিয়াকলাপ পরিচালনার জন্য দায়ীত্ব প্রাপ্ত থাকেন।

জীবন বিমা এজেন্সি উদ্যোক্তা তৈরী করতে পারে বিভিন্ন উপায়ে। তবে যে উপায়সমূহ অ্নুসরণ করার মাধ্যমে উদ্যোক্তা হওয়া যায় তন্মধ্যে এর কয়েটি উল্লেখযোগ্য উপায় নিচে তুলে ধরা হলো:

১. স্বেচ্ছায় যোগদানের সুযোগ: জীবন বিমা এজেন্সি পরিচালনা করতে গেলে একজন উদ্যোক্তা নিজেই ব্যবসা শুরু করতে পারেন, এখানে তিনি স্বেচ্ছায় কাজে যোগদান এবং স্বাধীন ব্যবসায়িক সত্তা হিসেবে গড়ে উঠার সুযোগ পান।

২. লাইসেন্স গ্রহণ এবং নিয়ম-কানুন: বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমার মধ্যে জীবন বিমা পলিসি বিক্রি করার জন্য বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ হতে লাইসেন্স গ্রহণ করতে হয়। এটি একটি উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান হতে নির্ধারিত প্রি-লাইসেন্স এডুকেশন অর্থাৎ ৭২ ঘন্টার প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব।

৩. তহবিল বিনিয়োগ: এজেন্সি শুরু করা এবং তার উন্নয়ন সাধন করতে তহবিলের প্রয়োজন পড়ে। কোম্পানি তার নীতিমালা অনুযায়ি তহবিলের যোগান দিয়ে থাকলেও অনেকাংশে নিজের থেকেও বিনিয়োগ করতে হয়।

৪. ব্যবসার দক্ষতা উন্নয়ন: একটি জীবন বিমা এজেন্সি পরিচালনা করতে গেলে উদ্যোক্তাকে বিক্রয়, বিপণন, গ্রাহক সেবা, আর্থিক পরিকল্পনা এবং পরিচালন দক্ষতা অর্জন করতে হয়। এই দক্ষতাগুলো অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও প্রয়োগ করা যায়।

৫. নেটওয়ার্কিং: জীবন বিমা এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে গেলে বিভিন্ন মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ থাকে, যা একটি শক্তিশালী পেশাদার নেটওয়ার্ক তৈরী করতে সাহায্য করে।

৬. প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন: অনেক জীবন বিমা কোম্পানি তাদের এজেন্টদের দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নের সুযোগ প্রদান করে। এই প্রশিক্ষণ উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক জ্ঞান এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সহায়ক হয়।

৭. আর্থিক স্বাধীনতা: সফল জীবন বিমা এজেন্টরা ভালো আয় করতে পারেন, যা তাদের আর্থিক স্বাধীনতা এবং স্থিতিশীলতা অর্জনে সাহায্য করে।

৮. সম্প্রসারণের সুযোগ: একটি সফল জীবন বিমা এজেন্সি বড় হওয়ার সাথে সাথে নতুন এজেন্ট নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণ দিতে পারে, যা উদ্যোক্তাকে একটি বড় ব্যবসায় পরিণত করতে সহায়তা করে।

৯. সামাজিক দায়িত্ব পালন: জীবন বিমা সেবা প্রদান করে উদ্যোক্তা সমাজের মানুষের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেন, যা সামাজিক দায়িত্ব পালন এবং মানবিকতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

১০. গ্রাহক পরিষেবা: বিমাগ্রহকদের ধরে রাখতে এবং একটি ইতিবাচক ব্যবসায়িক সুনাম তৈরি করতে চমৎকার গ্রাহক পরিষেবা প্রদান করা আবশ্যক। এতে গ্রাহকগণ বিমা সম্পর্কে আরো আগ্রহী হন এবং বিমার প্রয়োজনগুলো বুঝতে পারেন।

১১. পরিপালন: কোম্পানি নীতিমালা এবং দেশের সমস্ত আনুষঙ্গিক আইন ও প্রবিধান মেনে চলা নিশ্চিত করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে বিমা শিল্পের পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হয় এবং প্রয়োজনীয় মান বজায় রাখতে হয়।

১২. প্রযুক্তির ব্যবহার: বিমা গ্রাহকদের তথ্য সংরক্ষণ, প্রসেস অ্যাপ্লিকেশন, এবং ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হয়।

উক্ত উপায়গুলো একজন উদ্যোক্তাকে একটি সফল এবং স্থিতিশীল এজেন্সি ব্যবসা গড়ে তুলতে সহায়তা করে থাকে, যা ব্যক্তিগত এবং পেশাদারী জীবনে উন্নয়ন ও সাফলতা বয়ে আনে । একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য জীবন বিমা এজেন্সি শুরু করা একটি উত্তম ব্যবস্থা বা উপায় হতে পারে, যা আর্থিক ভবিষ্যত সুরক্ষিত করার পাশাপাশি একটি সফল ব্যবসা গড়ে তোলার অপার সুযোগ এনে দেয়। বেঙ্গল ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স দেশের সম্ভাবনাময় পরিশ্রমী এবং উদ্যোগী জনবলকে উপরোক্ত প্রত্যেকটি বিষয় অনুসরণের সুযোগ করে দেয়। এই কোম্পানির পর্ষদ এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ মানব সম্পদ উন্নয়নে দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ প্রদানে উদার হস্ত। এছাড়াও, কোম্পানিটিতে রয়েছে যুৎসই বিমা পরিকল্পের সম্ভার।

লেখক
চিফ অপারেটিং অফিসার
বেঙ্গল ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লি.

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১:৫০ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১২ আগস্ট ২০২৪

Arthobiz |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক : অহিদুজ্জামান মিঞা
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: খান ম্যানশন, ৮-ই, ২৮/এ-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ইমেইল: arthobiz61@gmail.com
যোগাযোগ: 01670045191