বুধবার ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডলারের দাম ফের উর্ধ্বমুখি

  |   মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   19 বার পঠিত

ডলারের দাম ফের উর্ধ্বমুখি

অর্থবিজ প্রতিবেদক :
ডলারের দাম ফের বাড়ছে| সোমবার (২০ জুলাই) কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সা দরে রেমিট্যান্সের ডলার কিনেছে| জুলাইয়ের শুরুর তুলনায় এই দর প্রায় ১০ পয়সা বেশি|
আমদানি দায় পরিশোধের চাপ বৃদ্ধি, প্রবাসী আয় কমে যাওয়া, রপ্তানি আয়ে ধীরগতি এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাম্প্রতিক আলোচনার পর বাজার প্রত্যাশায় পরিবর্তনের কারণে গত ৩-৪ সপ্তাহ ধরে ডলারের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা|
কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সা দরে রেমিট্যান্সের ডলার কিনেছে| জুলাইয়ের শুরুর তুলনায় এই দর প্রায় ১০ পয়সা বেশি| বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে আন্তঃব্যাংক ডলারের দর ৭৫ পয়সা বেড়ে ১২৩ টাকা ৬০ পয়সায় উঠেছে|
কেন্দ্রীয় ব্যাংক দীর্ঘদিন আন্তঃব্যাংক ডলারের রেফারেন্স রেট ১২২ টাকা ৮৫ পয়সায় ধরে রাখলেও ট্রেজারি কর্মকর্তারা বলছেন, বাস্তবে এই দরে খুব কমই লেনদেন হয়েছে|
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, শুধু জুন মাসেই ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি এলসি দায় পরিশোধ করা হয়েছে| বিশেষ করে সরকারি খাতের এলসি পরিশোধের চাপ বেশি ছিল| সার ও জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই চাপ তৈরি হয়েছে|
মূলত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়| সাধারণত এলসি খোলার এক থেকে তিন মাসের মধ্যে এর দায় পরিশোধ করা হয়| ফলে মার্চ ও এপ্রিলে খোলা অনেক এলসির পরিশোধের চাপ জুন ও জুলাইয়ে এসে পড়ে|
এ ছাড়া রমজান মাসে খোলা অনেক ইউপিএএস এলসির দায় জুনে পরিশোধ করা হয়েছে| চলতি জুলাই মাসেও এ ধরনের কিছু এলসির অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে|
অন্যদিকে, জুনে গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন প্রবাসী আয় এসেছে| ওই মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ২ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার|
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ইকোনমিক ইন্ডিকেটরস’ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এলসি নিষ্পত্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭০ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার| আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৭০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার| রপ্তানি আয় ধীর হলেও আমদানি চাহিদা শক্তিশালী থাকার বিষয়টি এতে উঠে এসেছে|

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানরা বলছেন, কিছু ব্যাংক এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে বেশি দামে প্রবাসী আয়ের ডলার কিনছে| এতে পুরো ডলার বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে|
তাদের মতে, কিছু ব্যাংক বেশি দামে ডলার কিনে পরে কম দামে বিক্রি করছে, বিশেষ করে সরকারি এলসির দায় পরিশোধের জন্য| প্রবাসী আয়ের ডলার সংগ্রহে এসব ব্যাংকের প্রতিযোগিতা বাজারকে আরও অস্থির করে তুলছে|
ডলার বাজারে অস্থিরতা তৈরির জন্য কোনো ব্যাংক দায়ী কি না, তা বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি করা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা|
সম্প্রতি আইএমএফের সঙ্গে আলোচনার পর বাজারের প্রত্যাশাতেও পরিবর্তন এসেছে| কর্মকর্তারা জানান, নিলামের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনার দর কেন একটি সীমিত পরিসরের মধ্যে থাকছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আইএমএফ| বৈঠকর পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগের নির্ধারিত রেফারেন্স রেটের পরিবর্তে নিজেদের ওয়েবসাইটে চলতি আন্তঃব্যাংক ডলারের দর প্রকাশ শুরু করে| এতে বিনিময় হার আরও বেশি বাজারনির্ভর হবে—এমন প্রত্যাশা জোরালো হয়েছে|
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে সরকারের আলোচনা চলছে| এ কারণে বর্তমানে ডলারের দর নির্ধারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনানুষ্ঠানিকভাবে কোনো হস্তক্ষেপ করছে না|

 

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১২:৪৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

Arthobiz |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক : অহিদুজ্জামান মিঞা
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: খান ম্যানশন, ৮-ই, ২৮/এ-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ইমেইল: arthobiz61@gmail.com
যোগাযোগ: 01670045191