বুধবার ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালির অস্থিরতায় বাড়ছে নৌ-বীমার প্রিমিয়াম

  |   সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   10 বার পঠিত

হরমুজ প্রণালির অস্থিরতায় বাড়ছে নৌ-বীমার প্রিমিয়াম

অর্থবিজ ডেস্ক :
ফলে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-পরিবহন ফের বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে| এর জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে যুদ্ধকালীন নৌ-বীমার প্রিমিয়াম বা মাশুল আবারো আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে| গত এক সপ্তাহে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ জলপথটিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে| খবর দ্য ন্যাশনাল|
বীমা ব্রোকার ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান মার্শের মেরিন, কার্গো ও লজিস্টিকস বিভাগের বৈশ্বিক প্রধান মার্কাস বেকার জানান, ওই অঞ্চলে যুদ্ধকালীন বীমার হার এখন জ্বালানি তেলের দামের মতো ওঠানামা করছে| কিছুদিন আগে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পর বীমার হার কিছুটা কমেছিল| তবে গত কয়েক দিনের সংঘাতের পর তা আবার দ্রুতগতিতে বাড়ছে|
বর্তমানে জাহাজের মূল কাঠামোগত মূল্যের ওপর ৩-১০ শতাংশ পর্যন্ত যুদ্ধকালীন বীমা মাশুল ধরা হচ্ছে| এ হিসাব অনুযায়ী, ১০ কোটি ডলার মূল্যের একটি তেলবাহী ট্যাংকারের জন্য এখন বীমা প্রিমিয়াম দিতে হচ্ছে ৩০ লাখ থেকে ১ কোটি ডলার| অথচ বৈশ্বিক উত্তেজনা শুরুর আগে বীমার হার ছিল দশমিক ২৫ শতাংশ| সে সময়ে একই জাহাজের জন্য প্রিমিয়াম লাগত আড়াই লাখ ডলার|
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ চলতি মাসের শুরুতে বীমার অতিরিক্ত খরচ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন|
তিনি বলেন, ‘বীমার উচ্চ ব্যয় জাহাজ মালিক ও পরিচালনাকারীদের ওপর বড় চাপ তৈরি করছে| পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও বীমা কোম্পানিগুলো দাম কমাচ্ছে না| বীমা প্রিমিয়ামের বাড়তি খরচের কারণে শেষ পর্যন্ত পণ্যের পরিবহন খরচ বাড়ছে, যা সরাসরি সাধারণ ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলছে|’
তবে গ্লোবাল বডি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মেরিন ইন্স্যুরেন্স (আইইউএমআই) এ অভিযোগের সমালোচনা করেছে| সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, বীমা খাত কোনো সমস্যা নয়, বরং সংকটের মধ্যেও সেবা দিয়ে যাচ্ছে| হরমুজ প্রণালিতে যেভাবে নিয়মিত হামলা চলছে, বীমার দাম মূলত সে ঝুঁকির আলোকেই নির্ধারিত হচ্ছে| এটি একটি আন্তর্জাতিক ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার, তাই এখানে সরকারি হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই বলে জানায় সংস্থাটি|
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব বাণিজ্য রুটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি স্থবির হয়ে পড়ে| বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়|

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত ১৭ জুন একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল| কিন্তু ফের পাল্টাপাল্টি হামলার পর গত শনিবার রাতে ইরান গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি আবারো বন্ধ ঘোষণা করে|
প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুটি সুপারট্যাংকারে গত মঙ্গলবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান| ‘ম¤^াসা’ ও ‘আল বাহয়াহ’ নামের ট্যাংকার দুটি পরিচালনা করত এডনক লজিস্টিকস অ্যান্ড সার্ভিসেস| ইরানি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের এ হামলায় একজন নাবিক নিহত ও আটজন আহত হন| যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও পাঁচদিন ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে| ফলে জলপথটি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে|
আইএমওর সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, সংঘাতপূর্ণ এ অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ছয় হাজার নাবিক আটকা পড়ে আছেন| তাদের নিরাপদ রুট দিয়ে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা চলছে|
মার্শের কর্মকর্তা মার্কাস বেকার বলেন, ‘এখন সবচেয়ে বড় সংকট হলো নাবিক ও সম্পদের নিরাপত্তা| দুই পক্ষ যেভাবে অননুমেয় আচরণ করছে, তাতে জাহাজ মালিকরা গভীর উদ্বেগের মধ্যে আছেন|’
তিনি জানান, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার জন্য জাহাজগুলোকে দুটি ভিন্ন পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে| একটি উত্তর দিকের ইরানি পথ ও অন্যটি দক্ষিণ দিকের ওমানি পথ| উত্তর দিকের পথটি ব্যবহার করলে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের আইনি ঝুঁকি থাকে| দক্ষিণ দিকের পথটি ব্যবহার করলে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) সরাসরি হামলার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে| ফলে কোন পথ দিয়ে জাহাজ যাবে, তার ওপর ভিত্তি করে বীমার খরচ ও শর্ত পরিবর্তন হচ্ছে|

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৭:১৭ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

Arthobiz |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক : অহিদুজ্জামান মিঞা
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: খান ম্যানশন, ৮-ই, ২৮/এ-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ইমেইল: arthobiz61@gmail.com
যোগাযোগ: 01670045191