মঙ্গলবার ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে তৈরি পোষাক ও টেক্সটাইল খাতে সক্ষমতা বাড়াতে এমওইউ স্বাক্ষর

  |   সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   13 বার পঠিত

নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে তৈরি পোষাক ও টেক্সটাইল খাতে সক্ষমতা বাড়াতে এমওইউ স্বাক্ষর

বিশেষ প্রতিনিধি :
বাংলাদেশের  তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতকে আরও টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও বৈশ্বিক বাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে সার্কুলার অর্থনীতি বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ| এর মাধ্যমে টেক্সটাইল মূল্য শৃঙ্খলে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, বর্জ্য কমানো, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উৎপাদন ব্যবস্থা এবং সবুজ শিল্পায়নে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে|
সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘এমওইউ সাইনিং অন কোপারেশন ইন দি ফিল্ড অব সার্কুলার ইকনমিক’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়| অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বৈশ্বিক টেক্সটাইল শিল্পে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা ও সার্কুলার পদ্ধতি গ্রহণ এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি| বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের সরবরাহ ব্যবস্থা যেহেতু বৈশ্বিক পরিসরে বিস্তৃত, তাই এই খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন|
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে অংশীদার হিসেবে কাজ করছে| পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি, লজিস্টিকস এবং টেকসই শিল্প উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও বাণিজ্য সহযোগী|
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই সমঝোতা স্মারক আমাদের অংশীদারিত্বকে আরও সবুজ, স্থিতিশীল ও ভবিষ্যতমুখী অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক| সার্কুলার অর্থনীতি কেবল পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা, টেকসই বিনিয়োগ আকর্ষণ, সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নতুন চাহিদা মোকাবিলার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত|’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ¯^ল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে| এ প্রেক্ষাপটে শিল্পখাতের টেকসই সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ ভবিষ্যৎ বাণিজ্য প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে|
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর কোনো একক পক্ষের মাধ্যমে সম্ভব নয়| এ জন্য সরকার, শিল্পখাত, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং ভোক্তাদের সমšি^ত উদ্যোগ প্রয়োজন| এই সমঝোতা স্মারকে বহু-পক্ষীয় সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা টেক্সটাইল খাতে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে|
অনুষ্ঠানে নেদারল্যান্ডস সরকারের অব্যাহত সহযোগিতা ও গঠনমূলক অংশগ্রহণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই অংশীদারিত্ব টেকসই শিল্প উন্নয়ন এবং জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি সফল উদাহরণ হয়ে উঠবে|
সমঝোতা স্মারকটি ¯^াক্ষরিত হয় বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং নেদারল্যান্ডসের মিনিস্ট্রি অফ ইকনমিক অ্যাফেয়ার্স এন্ড ক্লাইমেট পলিসি-এর মধ্যে| বাংলাদেশের পক্ষে এতে স্বাক্ষর করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং নেদারল্যান্ডসের পক্ষে স্বাক্ষর করেন দেশটির ক্লাইমেট এন্ড গ্রিন গ্রোথ বিষয়ক মন্ত্রী স্টিয়েন্টজে ভ্যান ভেলধোভেন| দুই দেশের মন্ত্রীরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর করেন|
নেদারল্যান্ডসের ক্লাইমেট অ্যান্ড গ্রিন গ্রোথ মন্ত্রী স্টিয়েন্টজে ভ্যান ভেলধোভেন বলেন, সার্কুলার অর্থনীতির প্রসার এখন অত্যন্ত জরুরি| তবে কোনো দেশ এককভাবে এই রূপান্তর সম্পন্ন করতে পারবে না| পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলজুড়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব এবং সমšি^ত উদ্যোগ প্রয়োজন|
তিনি বলেন, দুই দেশের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এসব আলোচনাকে দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়া প্রয়োজন|

তিনি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফোরামেও বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন| একই সঙ্গে দুই দেশের সহযোগিতাকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন|
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফাইয়াজ মুরশিদ কাজী এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল|
এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও  তৈরি পোশাক খাতে সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার, উদ্ভাবন, টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি হবে| একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের শিল্পখাতকে জলবায়ু সহনশীল ও ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার উপযোগী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে|

 

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৭:১১ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬

Arthobiz |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক : অহিদুজ্জামান মিঞা
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: খান ম্যানশন, ৮-ই, ২৮/এ-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ইমেইল: arthobiz61@gmail.com
যোগাযোগ: 01670045191