শুক্রবার ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যৎ গঠনে জার্মানি ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগ

  |   রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   69 বার পঠিত

টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যৎ গঠনে জার্মানি ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগ

অর্থবিজ প্রতিবেদক :
সেমস-গ্লোবাল এবং জিআইজেড বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘ইনোভেশনস অ্যান্ড পার্টনারশিপস ফর সাসটেইনেবল এনার্জি ট্রানজিশন’ শীর্ষক ফ্ল্যাগশিপ সম্মেলন ১৫ নভেম্বর রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-র ৫ নম্বর পুষ্পাঞ্জলি হলে অনুষ্ঠিত হয়।
দিনব্যাপী এই সম্মেলনে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, নীতিনির্ধারক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাবিদ ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বাংলাদেশকে নিম্ন-কার্বন ও জ্বালানি-দক্ষ ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে নিতে, সমন্বিত উদ্যোগ, উদ্ভাবন এবং দায়িত্বশীল বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তাসমূহ আলোচনায় উঠে আসে।
সম্মেলনটি আয়োজন করা হয় ২৭তম পাওয়ার বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক এক্সপো ২০২৫, ২২তম সোলার বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক এক্সপো ২০২৫ এবং ৭ম ঢাকা আন্তর্জাতিক লাইটিং এক্সপো ২০২৫ – এর পাশাপাশি, যা সম্মিলিতভাবে ‘২৭তম পাওয়ার সিরিজ অফ এক্সিবিশনস’ হিসেবে পরিচিত। সেমস-গ্লোবাল আয়োজিত পাওয়ার সিরিজ অব এক্সিবিশন্স দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক আলোক প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম।
সম্মেলনে বারবার উঠে আসে জার্মানির দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতার কথা। জিআইজেড বাংলাদেশের মাধ্যমে জার্মানি নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ, গ্রিড-ইন্টিগ্রেশন, শিল্প ও অবকাঠামো খাতে জ্বালানি-দক্ষতার উন্নয়ন, ই-মোবিলিটি এবং সবুজ দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা দিয়ে আসছে।
বাংলাদেশের টেকসই জ্বালানি রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে নীতি-সংলাপ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দেয় সহযোগিতাটি। এর লক্ষ্য হলো ফসিল জ্বালানির উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে একটি সবুজ, স্থিতিস্থাপক ও সামগ্রিক জ্বালানি ভবিষ্যৎ নির্মাণ এবং স্থানীয় দক্ষ জনশক্তিকে এ রূপান্তরের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম করে তোলা।
দিনব্যাপী আয়োজনে ‘চারটি থিমেটিক সেশন’ এর মাধ্যমে দেশের জ্বালানি রূপান্তরের বিভিন্ন অগ্রাধিকার বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রথম সেশন ‘গ্রিন কুলিং, রিনিউএবল এনার্জি অ্যান্ড এনার্জি এফিশিয়েন্সি’, সকাল ৯:৩০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। এতে সর্বাধুনিক কুলিং প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং শিল্প খাতে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
দ্বিতীয় সেশন ‘ফস্টারিং সিনার্জি ফর গ্রিন স্কিলস ডেভেলপমেন্ট’, সকাল ১১:৩০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে। বিশ্বব্যাংক, ব্র্যাক এবং আইএলওুএর প্রতিনিধিরা বলেন – সবুজ অর্থনীতিতে প্রবেশের জন্য তরুণদের শিল্পভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন সময়ের দাবি।
তৃতীয় সেশন ‘প্রাইভেট সেক্টর পার্টিসিপেশন ইন বাংলাদেশ’স রুফটপ সোলার প্রোগ্রাম’, দুপুর ২টা থেকে ৩:২০ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছাদ-সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে বেসরকারি বিনিয়োগ, উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক মডেল ও নীতিগত প্রণোদনার গুরুত্ব আলোচিত হয়।
শেষ সেশন ‘করপোরেট পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্টস (ঈচচঅং): দ্য নেক্সট ফ্রন্টিয়ার ফর গ্রিন ইন্ডাস্ট্রি’, বিকেল ৩:৩০টা থেকে ৪:৩০টা পর্যন্ত চলা আলোচনায় সিটি ব্যাংক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশন টু বাংলাদেশ, আইবি ভগট এপ্যাক, বিইপিডিবি এবং এইচঅ্যান্ডএমুএর প্রতিনিধিরা বলেন – শিল্পকারখানায় স্বল্পমূল্যে নির্ভরযোগ্য পরিষ্কার জ্বালানি নিশ্চিত করতে সিপিপিএ ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বক্তারা দেশের টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের জন্য সরকার, উন্নয়ন সংস্থা ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ অর্থায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন, রুফটপ সোলার এবং সিপিপিএুসংক্রান্ত আলোচনার মাধ্যমে সম্মেলনটি বাংলাদেশকে একটি সবুজ ও জ্বালানি-নিরাপদ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে। দেশের টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের অগ্রযাত্রাকে সম্মুন্নত রাখতে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘সেমস-গ্লোবাল’ ও ‘জিআইজেড বাংলাদেশ’ উদ্ভাবন, প্রতিষ্ঠানগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নীতি-সংলাপ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ২:০৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

Arthobiz |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক : অহিদুজ্জামান মিঞা
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: খান ম্যানশন, ৮-ই, ২৮/এ-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ইমেইল: arthobiz61@gmail.com
যোগাযোগ: 01670045191