
| বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 39 বার পঠিত

অর্থবিজ প্রতিবেদক :
দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে পূর্ণাঙ্গ সুপারিশমালা চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-কে এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবসা সহজীকরণের পথে সুনির্দিষ্ট বাধা ও তার কার্যকর সমাধান লিখিত আকারে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বিজিএমইএর পরিচালনা পর্ষদ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় উঠে আসে বকেয়া নগদ প্রণোদনা দ্রুত ছাড়, প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং ব্যাংকঋণসংক্রান্ত জটিলতার বিষয়গুলো।
বিজিএমইএ লিখিত বক্তব্যে জানায়, লিয়েন ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংক-এর অডিট প্রক্রিয়ার জটিলতায় বহু প্রতিষ্ঠানের নগদ সহায়তার আবেদন আটকে আছে। ২০২৫ু২৬ অর্থবছরে বস্ত্র ও পোশাক খাতে প্রায় ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রণোদনা এখনো অনিষ্পন্ন রয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তীব্র তারল্য সংকটে পড়েছে, যা রপ্তানি সক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বকেয়া অর্থ দ্রুত ছাড়, প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করা এবং ত্রৈমাসিক ভিত্তির পরিবর্তে আবেদন জমার পরপরই অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়। অর্থমন্ত্রী এ দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করে দ্রুত অর্থ ছাড় ও প্রক্রিয়া আধুনিকীকরণের আশ্বাস দেন।
বৈঠকে ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ নিয়েও আলোচনা হয়। বিজিএমইএর নেতারা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে তফসিলি ব্যাংকগুলো এনপিএল ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ করলেও সংশ্লিষ্ট কারখানাকে প্রয়োজনীয় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দেয় না। ফলে উৎপাদন সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়ে এবং ঋণ পরিশোধও ব্যাহত হয়। পুনঃতফসিলের পাশাপাশি কার্যকর মূলধন দিলে কারখানা সচল থাকবে এবং ব্যাংকও পাওনা আদায় করতে পারবে—এমন ‘উইন-উইন’ প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী সম্মতি জানান।
বিজিএমইএ নেতারা বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা টিকিয়ে রাখতে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো ও প্রশাসনিক জটিলতা দূর করার ওপর জোর দেন। কাস্টমস, বন্দর ও অন্যান্য সংস্থায় বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
অর্থমন্ত্রী পোশাক শিল্পকে দেশের অর্থনীতির ‘মেরুদণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে খাতটির টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য সরকারের সর্বাত্মক নীতি সহায়তার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে শিল্পের বাস্তব সমস্যার ভিত্তিতে একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী সুপারিশমালা দ্রুত জমা দেওয়ার নির্দেশ পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিজিএমইএ সভাপতি জানান, শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও রপ্তানি প্রতিযোগিতা শক্তিশালী করতে একটি বাস্তবধর্মী ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব শিগগিরই সরকারের কাছে পেশ করা হবে।

Posted ৪:৪৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Arthobiz | zaman zaman


