
| বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 88 বার পঠিত

বসুন্ধরা চেয়ারম্যানসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
অর্থবিজ প্রতিবেদক :
বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও তার দুই ছেলেসহ মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণের ৬০০ কোটি টাকা পরিশোধ না করে একে অপরের সঙ্গে যোগসাজশ করে আত্মসাতের অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুদকের উপপরিচালক (মানি লন্ডারিং) জাহাঙ্গীর আলম ঢাকা-১ জেলা কার্যালয়ে এই মামলা (নম্বর-০৫) করেন।
আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- বসুন্ধরা গ্রুপ ও বসুন্ধরা ইম্পোর্ট এক্সপোর্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, তার দুই ছেলে বসুন্ধরা ইম্পোর্ট এক্সপোর্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদাত সোবহান এবং একই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সাফিয়াত সোবহান।
দুদকের তালিকা অনুযায়ী অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক মনোয়ারা শিকদার, পারভীন হক শিকদার, মোয়াজ্জেম হোসেন, রিক হক শিকদার, রন হক শিকদার, আনোয়ার হোসেন, একেএম এনামুল হক শামীম, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন) হাসিনা সুলতানা, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজার আরিফ মো. শহিদুল হক, সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ক্রেডিট ইন-চার্জ আনিসুল হক, সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফরেন এক্সচেঞ্জ বিভাগ) সুলতানা পারভিন, সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সুবল চন্দ্র রায় ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ কামরুল হাসান মিঠু।
মামলায় বলা হয়েছে, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে যোগসাজসে বসুন্ধরা ইম্পোর্ট এক্সপোর্ট লিমিটেডের নামে ৬০০ কোটি টাকার ফান্ডেড ও ৭৫০ কোটি টাকার নন-ফান্ডেডসহ মোট ১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন নেয়। ফান্ডেড ঋণের ৬০০ কোটি টাকা পরিশোধ করেনি। আত্মসাৎকৃত টাকার অবৈধ প্রকৃতি, উৎস, অবস্থান এবং মালিকানা গোপন বা ছদ্মাবৃত্ত করে।
ঋণ অনুমোদনের শর্ত লঙ্ঘন করে বসুন্ধরা গ্রুপের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির বসুন্ধরা শাখায় পরিচালিত ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট (প্রা.) লিমিটেডের স্টাফদের বেতন-ভাতা পরিশোধ ও রংধনু বিল্ডার্স সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর করে ঋণ সমন্বয় ও নগদ উত্তোলন করে।
এছাড়া, আসামিরা যোগসাজশে ব্যাংকের প্রচলিত বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে। তারা অপর্যাপ্ত সহায়ক জামানত, অন্যান্য জামানত হিসেবে পারসোনাল গ্যারান্টি, ফিক্সড অ্যান্ড ফ্লোটিং অ্যাসেটের উপর চার্জ ক্রিয়েশন, চার্জ ডকুমেন্টস, করপোরেট গ্যারান্টি এবং কোন ফোর্টনাইট স্টক রিপোর্ট না থাকা, বৃহদাঙ্ক ঋণ অনুমোদনের আগে গ্রাহকের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করেনি। নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্যের বাজার তীব্র প্রতিযোগিতামূলক হওয়ায় প্রথম বছরেই নিট মুনাফা ৩৯৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং পরবর্তী দুই বছরে মুনাফা যথাক্রমে ২২ দশমিক ৫৬ শতাংশ ও ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখিয়ে ভুয়া আর্থিক বিবরণী তৈরি করে।
অন্যান্য ব্যাংকে ৬২৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা ঋণ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকের দায়-দেনার বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃক পর্যালোচনা করেনি। অপর্যাপ্ত ইক্যুইটি, গ্রাহকের কারখানা/ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন প্রতিবেদন ও স্টক রিপোর্ট না থাকা, আগের আমদানি- রপ্তানি সংক্রান্ত কোন তথ্য না থাকা ও বৃহদাঙ্ক ঋণের ক্ষেত্রে গ্রাহকের ক্রেডিট রেটিং না থাকা, বসুন্ধরা গ্রুপভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও বসুন্ধরা ইম্পোর্ট এক্সপোর্ট লিমিটেডকে আলাদা গ্রুপ হিসেবে দেখানো হয়।
গত বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীদের দুর্নীতি ও অনিয়ম অনুসন্ধান শুরু করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর ধারাবাহিকতায় বসুন্ধরা পরিবারের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি, ভূমি জবরদখল, ঋণ আত্মসাত ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুদক অনুসন্ধান চালাচ্ছে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে পরিবারটিকে দুদকে তলব করা হয়েছে।
অক্টোবরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) বসুন্ধরা পরিবারের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

Posted ৮:৩২ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
Arthobiz | zaman zaman


