
| শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট | 25 বার পঠিত

অর্থবিজ প্রতিবেদক :
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এরই মধ্যে সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার চেষ্টা করায় তিনটি কন্টেইনার জাহাজকে ফেরত যেতে বাধ্য করেছে আইআরজিসি নৌবাহিনী।
ইরানের আধা রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি এ খবর জানায়। ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, হরমুজ প্রণালি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এই জলপথ দিয়ে ইসরায়েলি-মার্কিন মিত্র ও সমর্থকদের’ বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। যে কোনো ধরনের পারাপারের চেষ্টা চালানো হলে তার বিরুদ্ধে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ গ্রহণ করা হবে বলেও জানায় তারা।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট উত্তোলিত তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই পথটি প্রায় অচল হয়ে পড়ে। তবে এবার তা আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হলো।
এমন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করার হুমকি দিয়ে একটি নতুন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।
ট্রাম্প জানান, ইরান যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয় তবে তাদের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের হামলা চালানো হবে। এই সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করছে পেন্টাগণ।
এর আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাবকে ‘অন্যায্য’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছিল। সংঘাতের এই চরম উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের ক্ষীণ আশা দেখা যাচ্ছে। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। খুব শিগগির উভয় দেশের প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের একটি নির্ধারিত স্থানে বৈঠকে বসতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন উভয় ঘটনাই বিশ্ব অর্থনীতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। লোহিত সাগরের পর এখন হরমুজ প্রণালি রুদ্ধ হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

Posted ৫:৫০ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
Arthobiz | zaman zaman


