
| সোমবার, ০৫ মে ২০২৫ | প্রিন্ট | 138 বার পঠিত

অর্থবিজ প্রতিবেদক :
দেশের চতুর্থ প্রজন্মের বীমা প্রতিষ্ঠান প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের রিভিউ পিটিশন না-মঞ্জুর করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। এর ফলে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের করা (ইড্রা) ২ কোটি ৬২ লাখ টাকা জরিমানা বহাল রয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৭ সাল এবং ২০১৯ সালের দায়মূল্যায়ন প্রতিবেদন যথা সময়ে দাখিল না করায় কোম্পানিটির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক এই ব্যবস্থা নেয়া হয়।
জানা গেছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কর্তৃপক্ষের ১৮১তম সভায় জরিমানার এই সিদ্ধান্ত হয়। গত ১৩ মার্চ কোম্পানিকে জরিমানার কথা জানানো হয়। ১৮২ ও ১৮৩তম সভায় আইডিআরএ সিদ্ধান্ত নেয়, কোম্পানি জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত তদারকি অব্যাহত রাখা হবে। প্রোটেক্টিভ লাইফকে আরোপিত জরিমানা পরিশোধে এর আগে একাধিকবার চিঠি দেয়া হয়। এই ব্যবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানির পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষের কাছে একটি রিভিউ পিটিশন করা হয়। তবে প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফের দাখিলকৃত জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় রিভিউয়ের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দায়মূল্যায়ন প্রতিবেদন যথাসময়ে কর্তৃপক্ষে দাখিল না করার কারণে ২ কোটি ৫৩ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং যথাসময়ে ২০১৯ সালের দায়মূলায়ন প্রতিবেদন দাখিল না করায় ৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা বহাল রাখা হয়।
জানা গেছে, ১০১৩ সালে ব্যবসা শুরু করা জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান প্রোটেক্টিভ লাইফের পরিশোধিত মূলধন ১৮ কোটি টাকা। ব্যবসা শুরুর একযুগ পার হলেও কোম্পানিটি এখন পর্যন্ত পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারেনি। এ জন্যও নিয়মিত জরিমানা গুনতে হচ্ছে। এ অবস্থায় দায়মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় দফায় দফায় জরিমানা কোম্পানির আর্থিক ভিতকে যেমন নড়বড়ে করছে অন্যদিকে গ্রাহকের কষ্টার্জিত অর্থের অপচয় হচ্ছে। এতে গ্রাহকের টাকা যথাসময়ে ফেরত পাওয়া নিয়েও তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা।
জীবন বীমা কোম্পানিকে বার্ষিক প্রতিবেদন ছাড়াও প্রতিবছর তার প্রিমিয়াম আয়, পরিচালন ব্যয়, গ্রাহকের অর্থের ঝুঁকিসহ সামগ্রিক বিষয় নিয়ে একটি ‘একচ্যুয়ারিয়াল ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট’ তৈরি করতে হয়, এই ভ্যালুয়েশন রিপোর্টই দায়মূল্যায়ন প্রতিবেদন। এই প্রতিবেদন তৈরি করে থাকেন একচ্যুয়ারি কনসালটেন্ট। তবে বাংলাদেশের বীমা খাতে একচ্যুয়ারি কনসালটেন্টের তীব্র সংকট রয়েছে। ফলে কোম্পানিগুলোর ‘সদিচ্ছা’ থাকলেও যথা সময়ে ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না।
জানা গেছে, প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফসহ অধিকাংশ বীমা কোম্পানির একচ্যুয়ারি কনসালটেন্টের দায়িত্ব পালন করেন একচ্যুয়ারি ড. সোহরাব উদ্দীন, এআই। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যথাসময়ে কোনো কোম্পানি দায়মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি এবং জমা না দিতে পারলে আইডিআরএ অবশ্যই জরিমানা করতে পারে। কিন্তু বছরের পর বছর জরিমানা করে সমস্যার সমাধান হবে না। যেসব কোম্পানি এসব নিয়ম মানছে না, আইডিআরএ চাইলে তাদের লাইসেন্স নবায়ন না করে স্থগিত করতে পারে। কিন্তু তা না করে জরিমানার অঙ্ক বাড়িয়ে কোম্পানিকে চাপে ফেলা হচ্ছে।
বীমা আইন, ২০১০-এর ৩০ ধারা অনুযায়ী লাইফ বীমা কোম্পানিকে প্রতি বছর বাধ্যতামূলকভাবে দায়মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করতে হয়। ৩২ ধারা অনুযায়ী পঞ্জিকা বছর শেষ হওয়ার ৯ মাসের মধ্যে দায়মূল্যায়ন প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের একচ্যুয়ারিয়াল শাখার লাইফ অনুবিভাগের ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইস্যু করা এক স্মারকে দেখা গেছে, ২০১৩ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বীমা আইন ২০১০-এর ৩০ ধারা এবং ৩২ ধারা লঙ্ঘন করায় বীমা আইন ২০১০-এর ১৩০ ধারা অনুযায়ী প্রতিবছরের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে ৫ বছরে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আর আইন লঙ্ঘন অব্যাহত থাকায় প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা করে ২০১৩ সালের জন্য ১ অক্টোবর ২০১৪ হতে ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ পর্যন্ত ৮৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, ২০১৪ সালের জন্য ১ অক্টোবর, ২০১৫ হতে ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ পর্যন্ত ৭১ লাখ ১৯ হাজার টাকা, ২০১৫ সালের জন্য ১ অক্টোবর, ২০১৬ হতে ২৩ মার্চ, ২০১৯ তারিখ পর্যন্ত ৪৫ লাখ ২০ হাজার টাকা, ২০১৬ সালের জন্য বিগত ১ অক্টোবর, ২০১৭ হতে ২৩ মার্চ, ২০১৯ পর্যন্ত ২৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এবং ২০১৭ সালের জন্য ১ অক্টোবর, ২০১৮ হতে ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ পর্যন্ত ১৬ লাখ ৯০ হাজার টাকাসহ প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফকে মোট ২ কোটি ৫৩ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।
উল্লেখ্য, জীবন বীমা কোম্পানির এজিএম করা বা লভ্যাংশ বিতরণ করার ক্ষেত্রে ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট তৈরি বাধ্যতামূলক । ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল ও ২০১৯ সালে প্রোটেক্টিভ লাইফের এজিএম হয়েছিল কিনা জানতে চাইলে ডা. কিশোর বিশ্বাস বলেন, এ সময়ে কোনো লভ্যাংশ প্রদান করা হয়নি, তবে নিয়মিত বোর্ড মিটিং হয়েছে। বিশাল অঙ্কের এই জরিমানার বিষয়ে আইডিআরএ’র সাবেক সদস্য সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লা বলেন, প্রত্যেকটি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে আইন মেনে ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট আইডিআরএ-তে দাখিল করতে হবে। কোনো কোম্পানি আইন পরিপালন না করলে বিধি অনুযায়ী আইডিআরএ ব্যবস্থা নিতে পারে।

Posted ৮:৩৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৫ মে ২০২৫
Arthobiz | zaman zaman


