
| মঙ্গলবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 70 বার পঠিত

অর্থবিজ প্রতিবেদক :
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি (এসআইবিএল) চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-ুসেপ্টেম্বর) ১ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। ২০০০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ব্যাংকটির ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় লোকসান। আগের বছর একই সময়ে ব্যাংকটি ৫১ কোটি টাকার বেশি নিট মুনাফা করেছিল। ব্যাংকের তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাইু-সেপ্টেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে কর-পরবর্তী নিট লোকসান হয়েছে ৭০৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে নিট মুনাফা ছিল ৫১ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
এই বড় ধরনের লোকসানের প্রধান কারণ হিসেবে ব্যাংকটি উল্লেখ করেছে সুদের ব্যয় বৃদ্ধি ও বিপুল অঙ্কের প্রভিশনিং গঠন। জানুয়ারিু-সেপ্টেম্বর সময়কালে ব্যাংকটি ২ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা সুদ পরিশোধ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩২ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা আমানতকারীদের এবং ৮৯১ কোটি টাকা ঋণ ব্যয়ের জন্য দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঋণ ও অগ্রিমের বিপরীতে ৪০১ কোটি টাকার প্রভিশনিং গঠন করতে হয়েছে।
অন্যদিকে, শেয়ার, ব্রোকারেজ কমিশন ও অন্যান্য উৎস থেকে অর্জিত আয়ের বিপরীতে ব্যাংকটির ৬৪৮ কোটি টাকার পরিচালন লোকসান হয়েছে। সুদ আয়ের বিপরীতে এসব ব্যয় বাদ দিলে সার্বিকভাবে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা।
প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির লোকসান ছিল ৪৬৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ, শুধু তৃতীয় প্রান্তিকেই (জুলাইু-সেপ্টেম্বর) ব্যাংকের নিট লোকসান হয়েছে ১ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল মাত্র ২৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।
ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমানতের বিপরীতে উচ্চ সুদহার এবং ঋণ ব্যয়ের বৃদ্ধি ব্যাংকের তহবিল ব্যয়ে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি, খেলাপি ঝুঁকিতে থাকা ঋণের বিপরীতে প্রভিশনিং গঠনও লোকসান বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
২০২৪ হিসাব বছরে ব্যাংকটির নিট লোকসান হয়েছিল ১০১ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যার ফলে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকের পুঞ্জীভূত লোকসান দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ১ হাজার ৮০৯ কোটি টাকায়।
১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে ১৮০টি শাখা, ২৩৬টি উপ-শাখা এবং ৩৭৫টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট পরিচালনা করছে। এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে— সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক সিকিউরিটিজ, সোশ্যাল ইসলামী ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং সোশ্যাল ইসলামী ফাউন্ডেশন হাসপাতাল।
২০১৭ সালে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এস আলম গ্রুপ। পরে ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক এর বোর্ড বিলুপ্ত করে পাঁচ সদস্যের নতুন বোর্ড নিয়োগ দেয়। নিরীক্ষিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়ায় ২০ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকায়।

Posted ৬:০৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৫
Arthobiz | zaman zaman


