
| শনিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 44 বার পঠিত

অর্থবিজ প্রতিবেদক :
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ছয় ব্যাংকের সবকটিতে মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে। ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা গভীর সংকটে। বিগত সরকারের সময়ে দেয়া লাগামহীন ঋণ খেলাপি, আদায় সক্ষমতা না থাকায়, মুনাফাহীনতা ও বিপুল মূলধন ঘাটতির কারণে সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালি, কৃষি ও রাকাব ব্যাংক কার্যত সঙ্কটে পড়েছে ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয় ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকারও বেশি— যেখানে ২০১৯ সালে ঘাটতি ছিল মাত্র ৩১ হাজার কোটি টাকা। সবচেয়ে বড় সংকটে আছে জনতা ব্যাংক, যার ঘাটতি একাই ৬৫ হাজার কোটি টাকার ওপরে। শীর্ষ ২০ খেলাপির— যেমন বেক্সিমকো, এস আলম, অ্যাননটেক্স— কাছে আটকে আছে ঋণের বড় অংশ।
ছয় ব্যাংক মিলিয়ে ৩২ হাজার ২৩৯ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতি ডেফারেল সুবিধার মাধ্যমে সাময়িকভাবে আড়াল করা হয়েছে। অর্থাৎ ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ না রেখে ভবিষ্যতের ওপর ঝুঁকি ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো থেকে বিপুল অর্থ বের করে নিয়েছে অল্প কিছু ব্যবসায়ী। ঋণ বিতরণে কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করেননি। সরকারেরও এখন ব্যাংকগুলোতে নতুন করে মূলধন যোগানোর সক্ষমতা বা নীতি— কোনোটি নেই। তাই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার কর্মপরিকল্পনা ব্যাংকগুলোকেই ঠিক করতে হবে।”
তিনি জানান, আগের কর্মপরিকল্পনাকে “অবাস্তব” বলে বাতিল করা হয়েছে এবং ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জুন পর্যন্ত ছয় ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট খেলাপির প্রায় এক-চতুর্থাংশ।
জনতা ব্যাংকে প্রতি ১০০ টাকার ৭১ টাকা ঝুঁকিপূর্ণ। ছয় ব্যাংকের গড় খেলাপি হার প্রায় ৪৯%। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের আরেক হিসাব অনুযায়ী, প্রকৃত খেলাপির অঙ্ক আরও বেশি— ১ লাখ ৬৬ হাজার কোটি। এর বিপরীতে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার কোটি, কিন্তু ব্যাংকগুলো অর্ধেকও আদায় করতে পারেনি।
এ ছাড়া সোনালী, রূপালি, অগ্রণী ও জনতা ব্যাংকের অবলোপন করা ঋণের পরিমাণ ১৪ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা; কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ১০৪ কোটি। একই সময়ে ছয় ব্যাংক সুদ আয় করেছে ১৫ হাজার ১০৯ কোটি টাকা, বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ১৯ হাজার ৩৮৮ কোটি— অর্থাৎ সুদখাতেই বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল আমিন বলেন, “রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে এমডি-ডিএমডি নিয়োগসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই। দুই ধরনের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং সরকারি আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর মতো পরিবেশ ব্যাংকগুলোর কর্মদক্ষতাকে সীমিত করেছে।”
তথ্য অনুযায়ী, ছয় ব্যাংকের মোট ঋণের ৬০% দেওয়া হয়েছে মাত্র পাঁচটি শাখা থেকে, যার ৮০% এখন খেলাপি।
এ ছাড়া তাদের মূলধন-ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ অনুপাত নেতিবাচক ১২৬% পর্যন্ত নেমে গেছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পুরোনো কর্মপরিকল্পনাকে অকার্যকর উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছয় ব্যাংককে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন, বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর দীর্ঘদিনের দুরবস্থা আরও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।

Posted ৩:৫৮ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫
Arthobiz | zaman zaman


