বৃহস্পতিবার ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোনালী লাইফে বরখাস্তকৃত কর্মকর্তাদের পুনর্বহাল দাবীতে তীব্র আন্দোলন

  |   বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   129 বার পঠিত

সোনালী লাইফে বরখাস্তকৃত কর্মকর্তাদের পুনর্বহাল দাবীতে তীব্র আন্দোলন

 

অর্থবিজ প্রতিবেদক :
সানালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বরখাস্তকৃত পাঁচ কর্মকর্তাকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে কোম্পানির সকল স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা আন্দোলনে নেমেছে। কোম্পানিটির প্রধান কার্যালয়ে গত ৯ জুলাই বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তা কর্মচারীরা দিনভর অবস্থান কর্মসূচী পালন করে। কর্মসূচী থেকে সোনালী লাইফের প্রশাসকের পদত্যাগ দাবি করা হয়। এ ধরনের আন্দোলনের ফলে কোম্পানির স্বাভাবিক কর্মকান্ড স্থবির হয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলিয়ে যাবার অঙ্গিকার ব্যাক্ত করেছেন। এ দিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বীমা গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় আইনের বাইরে কিছু করা সম্ভব নয়। এ ঘটনায় কোম্পানিটি বড় ধরনের অচলাবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
আন্দোলনকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা প্রশাসককে ৬ দফা দাবী সম্বলিত একটি স্মারকলিপি দিয়েছে। স্মারকলিপিতে গত ২ মাসে প্রশাসকের নেওয়া নানান পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। বলা হয়, অনৈতিক, অনভিপ্রেত, দূরভীসন্ধিমূলক পদক্ষেপের কারণে সোনালী লাইফ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এ অবস্থা ধেকে উত্তরণের জন্য তারা ৬ দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলো হলো সকল এফএ, ইউএম ও বিএমদের বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধ করা, নিরপেক্ষ অডিট কোম্পানি দিয়ে পূর্ণাঙ্গ অডিট করে রিপোর্ট প্রকাশ করা, স্যালারি পলিসি কার্যকর করার ক্ষেত্রে অন্যান্য জীবন বীমা কোম্পানির প্রচলিত সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় রেখে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নিয়ম যথাযথ প্রতি পালনের সাপেক্ষে দ্রুত বাস্তবায়ন করা, মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহিল কাফী, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা, সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মো. আজিম এবং সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মঞ্জুর মোর্শেদকে দ্রুত স্বপদে বহাল করা, হেড অফিসের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রধান কার্যালয়ে নিয়োগকৃত অস্ত্রধারী আনসার সদস্যদের প্রত্যাহার কওে নেয়া, এবং আইডিআরএর’র প্রশাসক নিয়োগপত্রের ৯৫(১) ধারার বাইরে স্বেচ্ছাচারী কোনো পদক্ষেপ বাস্তবায়ন না করা এবং ইচ্ছামত নিয়োগ ও বরখাস্ত বন্ধ করা। এর আগে গত ২১ এপ্রিল সোনালী লাইফের ১৮৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ সাসপেন্ড করে প্রশাসক নিয়োগ করে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।
জানা গেছে, ৯ জুলাই মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে সোনালী লাইফের প্রধান কার্যালয়ের (বর্ধিত) সামনে জমায়েত হন বীমা কোম্পানিটির ঢাকা ও এর আশপাশে কর্মরত মাঠকর্মী ও কর্মকর্তারা। এ সময় তারা প্রশাসকের অপসারণসহ সাসপেন্ডেড পরিচালনা পর্ষদের হাতে কোম্পানির দায়িত্ব তুলে দেওয়ার দাবি জানান। এ সময় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সোনালী লাইফের এসিসট্যান্ট ম্যানেজিং ডাইরেক্টর (এএমডি) সাহেল রহমান। তিনি বলেন, সোনালী লাইফের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত গ্রাহকের কোন অভিযোগ নেই। সঠিক সময়ে গ্রাহকের দাবি পরিশোধ করা হয়েছে। অথচ গ্রাহক স্বার্থ ক্ষুন্ন করার অভিযোগে সোনালী লাইফে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে আইডিআরএ। এই নিয়োগ ছিল অবৈধ।
তিনি আরও বলেন, হাইকোর্ট যেখানে প্রশাসককে তদন্তের জন্য সময় দিয়েছিলো ২ মাস। সেখানে ৩ মাস হয়ে গেলেও এখনো তদন্ত শেষ হয়নি। এ ছাড়াও সোনালী লাইফকে ধংস করার জন্য কর্মীদের বেতন-ভাতা বন্ধ করা হয়েছে, সেলস পলিসি বন্ধ করা হয়েছে। প্রশাসকের অদক্ষতার কারণে গত ৩ মাসে সোনালী লাইফের ব্যবসা অর্ধেকে নেমে এসেছে।
সাহেল রহমান বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে এই সমাবেশ করছি। প্রশাসককে অমান্য করার এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের যে অভিযোগ আনা হয়েছে সে পরিস্থিতি প্রশাসক নিজেই তৈরি করেছেন। তিনি আইডিআরএ’র আইনের বাইরে গিয়ে আমাদেরকে ছাঁটাই করছেন। তিনি (প্রশাসক) নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ করেছেন, সেলস পলিসি বন্ধ করেছেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছাঁটাই করছেন। এটা করা তার কোনো এখতিয়ার নেই।
কর্মবিরতি প্রসঙ্গে প্রশাসক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) এস এম ফেরদৌস বলেন, কারো দ্বারা প্ররোচিত হয়ে তারা আন্দোলনে গেছে। তাদের বেতন-ভাতা বকেয়া নেই। আমাকে কিছু না জানিয়েই তারা কর্মবিরতিতে গেছে। বিভিন্ন অনিয়মের কারণে যাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তাদের প্ররোচনায়ই আজকের এই কর্মবিরতি। আমি বিশ্বাস করি অচিরেই তারা নিজ নিজ দায়িত্বে ফিরে আসবেন। সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীদের আন্দোলনে যাওয়ার কোন যৌক্তিকতা নেই। তাদের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা বহাল রয়েছে। তিনি বলেন, শুধু আইডিআরএ নয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকেও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। এই প্রতিষ্ঠানটিতে এত বড় দুর্নীতি হয়েছে যে সঠিকভাবে সেগুলো তদন্ত করা না হলে সমগ্র বীমা খাত প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তদন্ত কার্যক্রম সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগছে।
সোনালী লাইফের চীফ অপারেটিং অফিসার অজিত চন্দ্র আইস কোম্পানির বিক্ষুব্ধ আন্দোলন সম্পর্কে অর্থবিজকে বলেন, একটি বীমা কোম্পানিতে এ ধরনের আন্দোলন কাম্য নয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমি ১৫ দিনের ছুটি নিয়েছি। এ অবস্থায় কোম্পানিতে অফিস করা সম্ভব নয়। আমি আন্দোলনকারীদেরকে বলেছি, প্রশাসক সাহেব যা করেছেন, তা আইনের মধ্যে থেকেই করেছেন। তাকে চাপ দিয়ে আইনের বাইরে কিছু করা যাবে বলে আমার মনে হয় না। ফলে সমস্যা সমাধানে তার সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিৎ। এ ভাবে আন্দোলন করতে থাকলে তাদের দাবী আদায় হবে কিনা, আমি জানি না, তবে কোম্পানির ব্যবসার অনেক ক্ষতি হবে।

 

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪

Arthobiz |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক : অহিদুজ্জামান মিঞা
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: খান ম্যানশন, ৮-ই, ২৮/এ-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ইমেইল: arthobiz61@gmail.com
যোগাযোগ: 01670045191