বুধবার ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে, আমি চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছি : আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান

  |   বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   38 বার পঠিত

গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষায়  সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে, আমি চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছি : আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান

অর্থবিজ প্রতিবেদক :
বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন বলেছেন, বীমা খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় দুুটি বিষয়ে সবোর্চ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে| একটি গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা করা এবং অপরটি এ খাতটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া| দুটি কাজই কঠিন, তবে এটি আমি চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছি|
আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) সকালে সংস্থার সভা কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন| সভায় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রোনিকস মিডিয়ার সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন| সভায় সংস্থার পক্ষে কেবলমাত্র আয়োজক চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন এবং সংস্থার মুখপাত্র সাইফুন্নাহার সুমি উপস্থিত ছিলেন| সভায় সংস্থার কোন সদস্য ও নির্বাহী কর্মকর্র্তা উপস্থিত ছিলেন না| এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, আপনারা জানেন, সংস্থায় জনবল কম| কাজের অনেক চাপ| এ জন্য আমি তাদেরকে রাখি নাই|
আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন তার বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, বিমা খাতে বড় সমস্যা হলো আস্থার সংকট| গ্রাহকরা সময়মতো তাদের দাবী পায় না| এ জন্য জনগন বীমা করতে চায় না| এ অবস্থার অবশ্য্যই পরিবর্তন ঘটাতে হবে| এ জন্য বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা গ্রাহকের দাবি (ক্লেইম) পরিশোধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে| এ ক্ষেত্রে যার দাবী আগে হয়েছে, তাকে আগে দিতে হবে| পরেরটা পরে দিতে হবে| তাহলে গ্রাহক ভোগান্তি কম হবে|
চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন তার দায়িত্বভার গ্রহনের পর মাত্র কয়েক সপ্তাহের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, এখানে পাহাড়সম সমস্যা| এই সমস্যা যেমন একদিনে সৃষ্টি হয়নি, তেমনি রাতরাতি দুর করাও সম্ভব হবে না| তবে আর যাতে এ ধরনের সমস্য নতুন করে ˆতরি না হয়, সে লক্ষে আমি কাজ করে যাব| এ প্রসেেঙ্গ তিনি সাংবাদিকদের বিশেষ করে যে সকল সাংংবাদিক বীমা সেক্টর নিয়ে কাজ করেন, তাদেরকে বীমা খাতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার আখ্যায়িত করে বলেন, আপনাদের সহযোগিতা খুবই প্রযোজন| আপনাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা শেয়ারে এই খাতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ভূমিকা রাখবে| পরে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রেেশ্নর জবাব দেন|
লাইফ ইন্স্যুরেন্সে বকেয়া বীমা দাবী পরিশোধ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি বক্তব্যের শুরুতেই বলেছি, আমার সবোর্চ্চ গুরুত্ব থাকবে বকেয়া বীমা দাবী পরিশোধে ব্যবস্থা গ্রহন| তিনি বলেন, প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা বীমা দাবী বকেয়া পড়েছে| সব দাবীতো একসঙ্গে পরিশোধ করা যাবে না, তবে আমরা এরমধ্যে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা বকেয়া দাবী পরিশোধ করার বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছি| তিনি বলেন, কমবেশি বেশকিছু বীমা কোম্পানির দাবী বকেয়া রয়েছে| তবে ৭টি বীমা কোম্পানির কাছে গ্রাহকের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা দাবী বকেয়া পড়েছে| আমি ইতোমধ্যে এ সকল বীমা কোম্পানির চেয়ারম্যান এবং এমডিদের সঙ্গে পৃথক ভাবে কথা বলেছি| তাদের প্রকৃত অবস্থা জানার চেষ্টা করেছি| এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদ, বিনিয়োগ ও আর্থিক সক্ষমতা পর্যালোচনা করা হয়েছে| কোথাও সম্পদের মূল্যায়নে সন্দেহ থাকলে নতুন করে মূল্যায়নের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে| তাদের বলেছি, কোন অজুহাত দেখানো চলবে না, গ্রাহকের টাকা পরিশোধ করতে হবে|
তিনি বলেন, প্রযোজনে এসব কোম্পানির জমি, ট্রেজারি বন্ড, বিনিয়োগ ও অন্যান্য সম্পদ ধাপে ধাপে বিক্রি করে অর্থ একটি পৃথক ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে| প্রতিটি কোম্পানির জন্য আলাদা হিসাব থাকবে এবং সেখানে নিরীক্ষক (অডিটর) যুক্ত থাকবেন| পরে ‘ফার্স্ট ইন, ফার্স্ট আউট (এফআইএফও)’ পদ্ধতিতে অর্থাৎ আগে যাদের দাবি জমা পড়েছে, তাদের আগে পরিশোধ করা হবে|তিনি বলেন, সম্পদ নগদায়নের ক্ষেত্রে চারটি উৎস বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে| এগুলো হলো- ভালো ব্যাংকে থাকা এফডিআর, সরকারি ট্রেজারি বন্ড, বিক্রিযোগ্য জমি এবং অন্যান্য বিনিয়োগ| ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে আটকে থাকা আমানতের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে|
চেয়ারম্যান বলেন, বীমা খাতে অতিরিক্ত কমিশন দেওয়ার প্রবণতা এখনো বন্ধ হয়নি| অনেক ক্ষেত্রে বেতনের আড়ালে বা বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে কমিশন দেওয়া হচ্ছে| নন- লাইফ ইন্স্যুরেন্সে জিরো কমিশন নীতিমালা লংঘন করে কোন কোন বীমা কোম্পানি অতিগোপনে কমিশন দিয়ে অন্যের ব্যবসা বাগিয়ে নেয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তার দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি বলেন, হ্যাঁ এ বিষয়টিও নজরে এসেছে| এ বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে| আগামী এক মাসের মধ্যে এর অগ্রগতি দেখতে পাবেন| কমিশন বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ুকঠোর অবস্থান রয়েছে| নন-লাইফে ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা করার অভিযোগ সম্পর্কিত অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সব বিষয়ে আমরা কাজ করছি| রাজ¯^ ফাঁকি দিলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে| তিনি সংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের মাধ্যমে আমরা অনেক তথ্য পাই| তবে সাথে সাথেই ব্যবস্থা নেয়া যায় না| যাচাই বাছাই করে দেখতে কিছুটা সময় লাগে|
বীমা কোম্পানিগুলোর ওপর প্রচলিত কমপ্লায়েন্সভিত্তিক তদারকির পরিবর্তে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি (রিস্ক বেইজড সুপারভিশন) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান আইডিআরএ চেয়ারম্যান| তিনি বলেন, বর্তমানে যেসব আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে আসে, সেগুলো অনেক পুরোনো| ফলে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা যায় না| নতুন পদ্ধতিতে নিয়মিত ও হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে কোম্পানির ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হবে| এতে অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে| গ্রাহক সুরক্ষায় ইউনিক পলিসি হোল্ডার আইডি চালুর বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে |
চেয়ারম্যান বলেন, একটি ˆবধ বীমা পলিসির বিপরীতে গ্রাহকের মোবাইল ন¤^রে ইউনিক আইডি চলে আসবে| ভবিষ্যতে কোনো গ্রাহক যদি এই আইডি না পান, তাহলে তিনি যেন ওই পলিসিতে প্রিমিয়াম না দেন, এ বিষয়ে দেশব্যাপী জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে|
কোন কোন বিমা কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের শিক্ষাগত সনদ জালিয়াতির অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, বিষয়টি আইডিআরএর নজরে রয়েছে|ভবিষ্যতে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যাচাই আরও কঠোর করা হবে| প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ডাটাবেজ ব্যবহার, সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য যাচাই, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমš^য় এবং সিআইবির মাধ্যমে ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে|

বীীমা কোম্পানির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, খাতটিতে বহুস্তরীয় সমস্যা রয়েছে| তাই সব বিষয়ে একসঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়|
তিনি বলেন, প্রথম ধাপে গ্রাহকের দাবি পরিশোধ ও খাতকে স্থিতিশীল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে| এরপর যেসব ক্ষেত্রে অর্থ আত্মসাৎ বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যাবে, সেগুলোর বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে|
তিনি বলেন, বীমা খাতকে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সরকার, অন্যান্য নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি এবং গণমাধ্যম সব পক্ষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন| প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধার, এরপর ধাপে ধাপে পুরো খাতকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা|

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৬:০১ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

Arthobiz |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক : অহিদুজ্জামান মিঞা
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: খান ম্যানশন, ৮-ই, ২৮/এ-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ইমেইল: arthobiz61@gmail.com
যোগাযোগ: 01670045191