বৃহস্পতিবার ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুঁজিবাজারে আজীবন নিষিদ্ধ শিবলী রুবাইয়াত ও রিয়াজ ইসলাম

  |   বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   85 বার পঠিত

পুঁজিবাজারে আজীবন নিষিদ্ধ শিবলী রুবাইয়াত ও রিয়াজ ইসলাম

অর্থবিজ প্রতিবেদক :

পুঁজিবাজারে অনিয়ম, স্বার্থসংঘাত ও অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম এবং এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলামকে পুঁজিবাজারের সব ধরনের কার্যক্রম থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত বিএসইসির ৯৭৮তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।
বিএসইসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পদ্মা প্রিন্টার্স অ্যান্ড কালার লিমিটেডে বিনিয়োগ এবং পরবর্তীতে কোম্পানিটির নাম পরিবর্তন করে কোয়েস্ট বিডিসি লিমিটেডের মূলধন ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা থেকে ৫০ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রক্রিয়ায় শিবলী রুবাইয়াত ও রিয়াজ ইসলামের অনৈতিক যোগসাজশ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এর আগে বিএসইসির গঠিত অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি কোয়েস্ট বিডিসির কার্যক্রমে বিনিয়োগ অনিয়ম, সম্পদমূল্যায়নে জালিয়াতি, অনুমোদনবিহীন ব্যবসা পরিচালনা, ঘুষ ও মানি লন্ডারিংয়ের প্রমাণ পায়। প্রতিবেদনে দুইজনকে আজীবন নিষিদ্ধ করা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে অভিযোগ পাঠানোর সুপারিশ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত ও রিয়াজ ইসলামের যোগসাজশে এলআর গ্লোবালের ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডের তহবিল ব্যবহার করে পদ্মা প্রিন্টার্সের ৫১ শতাংশ শেয়ার উচ্চ দামে ক্রয় করা হয়। একই সঙ্গে ঐ ফান্ডগুলোর কর্মকর্তাদের পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিএসইসি মনে করে, এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা ও আস্থা নষ্ট হয়েছে।
শেয়ারবাজারের সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানি এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী ও প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলামকে ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডের টাকা ‘বিধিবহির্ভূতভাবে’ বিনিয়োগের অভিযোগে পুঁজিবাজারে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ছয় মিউচুয়াল ফান্ড ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থেকে এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
একই ঘটনায় যোগসাজশের দায়ে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামকেও পুঁজিবাজারে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও এর আগে বেক্সিমকোর বন্ডের অনিয়মের দায়ে শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এখন আরেকটি অনিয়মের ঘটনায় তাঁকে পুনরায় শেয়ারবাজারে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বিএসইসি।
বিএসইসির দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই অনিয়মের ঘটনায় ছয় ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে ৯ কোটি ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে, তাঁরা হলেন এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশে প্রধান নির্বাহী রিয়াজ ইসলাম, রেজাউর রহমান সোহাগ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) শরীফ আহসান, মদিনা আলী, সৈয়দ কামরুল হুদা, ওমর শোয়েব চৌধুরী ও বাংলাদেশ জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি (বিজিআইসি)।
এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা জরিমানা করা হয় বিজিআইসিকে। আর ছয় ব্যক্তিকে ১ কোটি টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এই ১ কোটি টাকার বাইরে রেজাউর রহমান সোহাগকে আরো ১০ লাখ টাকা এবং শরীফ আহসানকে আরো ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
বিএসইসি জানিয়েছে, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশের হাতে থাকা ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ড থেকে শেয়ারবাজারে ওটিসি বাজারে থাকা বন্ধ কোম্পানি পদ্মা প্রিন্টার্সের শেয়ারে দুই দফায় প্রায় ৬৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়।
প্রথম দফায় বন্ধ ও লোকসানি কোম্পানি পদ্মা প্রিন্টার্স অ্যান্ড কালারের ৫১ শতাংশ শেয়ার চড়া মূল্যে অধিগ্রহণের জন্য প্রায় ২৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছিল। এই শেয়ার অধিগ্রহণের পর কোম্পানিটির নাম বদলে করা হয় কোয়েস্ট বিডিসি লিমিটেড। নামবদলের পর কোয়েস্ট বিডিসির মূলধন বাড়াতে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে নতুন শেয়ার ইস্যু করে ছয়টি ফান্ড থেকে দ্বিতীয় দফায় ৪৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়।
বিএসইসি বলছে, বন্ধ ও লোকসানি কোম্পানির শেয়ার চড়া মূল্যে কিনে ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ড থেকে এই অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে মূলত ফান্ডগুলোর ইউনিটধারীদের অর্থেরই অপচয় করা হয়েছে। এ কারণে সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানটি ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বিএসইসি।
সেই সঙ্গে ছয়টি ফান্ড থেকে বিনিয়োগ করা অর্থুসুদসহ ৯০ কোটি টাকা ৩০ দিনের মধ্যে ফেরত আনার নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি। এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনায় থাকা যে ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ নিয়ে এই অনিয়ম ও অপব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো হলো এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড, এলআর গ্লোবাল মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান, এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ও গ্রিন ডেলটা মিউচুয়াল ফান্ড।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৬:১৮ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

Arthobiz |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক : অহিদুজ্জামান মিঞা
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: খান ম্যানশন, ৮-ই, ২৮/এ-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ইমেইল: arthobiz61@gmail.com
যোগাযোগ: 01670045191