
| রবিবার, ১৭ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | 108 বার পঠিত

এম এ মাসুম :
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে “অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি)” নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে| নামের মধ্যে “পার¯পরিক” শব্দটি থাকলেও বাস্তবে চুক্তিটি কতটা ভারসাম্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক, রাজনৈতিক দল এবং ব্যবসায়ী মহলে| কারণ, ৩২ পৃষ্ঠার এই চুক্তিতে “বাংলাদেশ ংযধষষ” বা বাধ্যতামূলকভাবে পালন করবে এমন শব্দ এসেছে ১৩১ বার, বিপরীতে “টঝ ংযধষষ” এসেছে মাত্র ৬ বার| অর্থাৎ, চুক্তির মূল দায় ও বাধ্যবাধকতার বড় অংশ বাংলাদেশের ওপর বর্তেছে|
এই চুক্তি শুধু শুল্ক বা আমদানি-রপ্তানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং শ্রমনীতি, মেধা¯^ত্ব, ডিজিটাল বাণিজ্য, পরিবেশ, ক…ষি, বিনিয়োগ, এমনকি জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মানতে হবে বাংলাদেশকে| ফলে প্রশ্ন উঠছে এটি কি সত্যিই একটি সমঅধিকারভিত্তিক বাণিজ্যচুক্তি, নাকি শক্তিশালী রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপের ফল?
শুল্ক সুবিধা: লাভ কার বেশি?
চুক্তির অন্যতম বড় দিক হলো বাংলাদেশের বাজারে মার্কিন পণ্যের জন্য শুল্ক কমানো বা শূন্যে নামিয়ে আনা| হাজার হাজার পণ্যে ধাপে ধাপে শুল্ক কমবে| অনেক পণ্যে চুক্তি কার্যকর হওয়ার দিন থেকেই শুল্ক শূন্য হবে| অন্যদিকে বাংলাদেশি পণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের সুবিধা দেয়নি| বরং বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর বিদ্যমান এমএফএন শুল্কের সঙ্গে অতিরিক্ত পাল্টা শুল্কও বহাল থাকতে পারে| বিশেষ করে ˆতরি পোশাকের মতো প্রধান রপ্তানি খাত এতে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাবে না| ফলে বাস্তবতা হলো—বাংলাদেশ তার বাজার খুলে দি”েছ, কিš‘ বিনিময়ে সমপরিমাণ বাজার সুবিধা পা”েছ না| এতে বাংলাদেশের রাজ¯^ আয় কমবে, অথচ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ সহজ হবে না|
বাধ্যতামূলক কেনাকাটা: অর্থনৈতিক চাপের নতুন রূপ
চুক্তির সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো নির্দিষ্ট পণ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনার অঙ্গীকার| বাংলাদেশকে বছরে বিপুল পরিমাণ গম, সয়াবিন, তুলা, এলএনজি এবং সামরিক সরঞ্জাম কিনতে হবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে| উদাহরণ হিসেবে বলা যায়:
বছরে অন্তত ৭ লাখ টন গম,
১২৫ কোটি ডলারের সয়াবিন ও সয়াপণ্য,
দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি আমদানি,
১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ,
বাড়তি সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়|
সমস্যা হলো, বাংলাদেশ বর্তমানে এসব পণ্য তুলনামূলক কম দামে অন্য দেশ থেকে আমদানি করে| রাশিয়া-ইউক্রেন অঞ্চল থেকে গম, ব্রাজিল বা ভারত থেকে তুলা, মধ্যপ্রাচ্য বা অন্যান্য উৎস থেকে জ্বালানি আনা তুলনামূলক সস্তা| যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করলে পরিবহন খরচও বাড়বে| ফলে এই বাধ্যতামূলক ক্রয় দেশের অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে| সরকারি অর্থ ব্যয় বাড়বে, আমদানিনির্ভরতা বাড়বে এবং ভোক্তাদের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে|
শ্রম আইন ও শ্রমিক অধিকার: সংস্কার না চাপ?
চুক্তির বড় একটি অংশ শ্রম অধিকার নিয়ে| বাংলাদেশকে শ্রম আইন পরিবর্তন করতে হবে, ইউনিয়ন গঠনের শর্ত সহজ করতে হবে এবং ইপিজেডে ¯^াধীন ট্রেড ইউনিয়নের সুযোগ দিতে হবে| একদিকে এটি শ্রমিক অধিকারের উন্নয়ন হিসেবে দেখা যেতে পারে| কারণ, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের শ্রমখাতে আন্তর্জাতিক সমালোচনা রয়েছে| কিš‘ প্রশ্ন হ”েছ এই পরিবর্তন কি বাংলাদেশের নিজ¯^ প্রয়োজন ও বাস্তবতা অনুযায়ী হবে, নাকি বিদেশি চাপের কারণে? চুক্তিতে এমনকি ২০২৩ সালের শ্রমিক আন্দোলনের মামলাগুলো প্রত্যাহার বা নিষ্পত্তির কথাও বলা হয়েছে| অর্থাৎ এটি কেবল অর্থনৈতিক নয়, অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ও আইনি বিষয়েও প্রভাব ফেলছে|
মেধা¯^ত্ব: ওষুধ ও কৃষিখাতে ঝুঁকি
বাংলাদেশকে একাধিক আন্তর্জাতিক মেধা¯^ত্ব চুক্তিতে যোগ দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে| এর ফলে পেটেন্ট সুরক্ষা আরও কঠোর হবে| বাংলাদেশ বর্তমানে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনে ˆবশ্বিকভাবে শক্ত অব¯’ানে রয়েছে| এলডিসি সুবিধার কারণে অনেক ওষুধ কম দামে উৎপাদন করা সম্ভব হয়| কিš‘ কঠোর মেধা¯^ত্ব আইন কার্যকর হলে ওষুধ উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে| একইভাবে ক…ষিখাতেও প্রভাব পড়তে পারে| বীজ সংরক্ষণ ও বিনিময়ে সীমাবদ্ধতা এলে ছোট ক…ষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন| বহুজাতিক কোম্পানির বীজ ও প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা বাড়বে| অর্থাৎ, এই চুক্তি দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা ও জন¯^া¯’্য খাতেও প্রভাব ফেলতে পারে|
ডিজিটাল বাণিজ্য ও প্রযুক্তি: সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন
চুক্তির ডিজিটাল বাণিজ্য অংশটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ| এখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এমন কোনো ডিজিটাল নীতি নিতে পারবে না, যা মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ˆবষম্যমূলক হয়| বাংলাদেশকে সীমান্ত পেরিয়ে ডেটা আদান-প্রদান সহজ করতে হবে| ডিজিটাল সেবায় আলাদা কর আরোপ করা যাবে না| এমনকি নতুন ডিজিটাল বাণিজ্যচুক্তি করলে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বিবেচনা করতে হবে| এতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের তথ্য-নিরাপত্তা, ডেটা লোকালাইজেশন ও ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে| রাষ্ট্রের নিজ¯^ প্রযুক্তিনীতি গ্রহণের ¯^াধীনতাও সীমিত হতে পারে|
জাতীয় নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতি
চুক্তির সবচেয়ে সংবেদনশীল দিকগুলোর একটি হলো জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতা| বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, নিষেধাজ্ঞা এবং নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে বলা হয়েছে| এমনকি এমন দেশ থেকে পারমাণবিক প্রযুক্তি বা সংবেদনশীল পণ্য কেনা যাবে না, যাকে যুক্তরাষ্ট্র তার ¯^ার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে| এতে ভবিষ্যতে চীন, রাশিয়া বা অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক চাপের মুখে পড়তে পারে| অথচ চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আমদানি উৎস এবং অবকাঠামো বিনিয়োগের বড় অংশীদার| ফলে এই চুক্তি শুধু অর্থনৈতিক নয়; বরং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও কৌশলগত ¯^াধীনতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে|
পরিবেশ ও মৎস্য খাত: নতুন বাধ্যবাধকতা
চুক্তিতে পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পর্কিত নানা শর্তও রয়েছে| অবৈধ বনজ পণ্য বাণিজ্য বন্ধ, টেকসই মৎস্য ব্যব¯’াপনা, বন্য প্রাণী পাচার রোধ—এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে| নীতিগতভাবে এগুলো ইতিবাচক হলেও বাস্তবায়নে বড় প্রশাসনিক ও আর্থিক সক্ষমতা প্রয়োজন| উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য এসব শর্ত দ্রুত বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে| বিশেষ করে মৎস্য ভর্তুকি কমানোর শর্ত উপকূলীয় জেলে ও ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে|
ডব্লিউটিও নীতির সঙ্গে সংঘর্ষ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির কিছু অংশ বিশ্ব বাণিজ্য সং¯’ার (ডব্লিউটিও) “মোস্ট ফেভারড নেশন (এমএফএন)” নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক| কারণ, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রকে বিশেষ শুল্ক সুবিধা দি”েছ, যা অন্য সদস্য রাষ্ট্রও দাবি করতে পারে| একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখছে| অর্থাৎ, একদিকে বাংলাদেশ বাজার খুলে দি”েছ, অন্যদিকে নিজেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যব¯’ায় জটিলতার মুখে পড়তে পারে|
পোশাক খাত: প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতা
বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত ˆতরি পোশাক| অনেকেই আশা করেছিলেন, এই চুক্তির ফলে পোশাক খাত বড় সুবিধা পাবে| কিš‘ বাস্তবে সুবিধা সীমিত| যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, নির্দিষ্ট কিছু পোশাকে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ হবে না| কিš‘ এমএফএন শুল্ক বহাল থাকবে| আবার সুবিধা নির্ভর করবে বাংলাদেশ কতটা মার্কিন তুলা ও ক…ত্রিম তš‘ ব্যবহার করছে, তার ওপর| অর্থাৎ, বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামালের ওপর আরও নির্ভরশীল হতে হবে| এতে উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে|
আদালতের রায়ে নতুন প্রশ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তি আবারও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে| বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা পাল্টা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করার পর এই চুক্তির ভবিষ্যৎ, কার্যকারিতা এবং বাংলাদেশের জন্য এর প্রক…ত অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে| বিশ্লেষকদের মতে, যে প্রেক্ষাপটে এবং যে উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ এই চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল, আদালতের রায়ের পর সেই ভিত্তিই অনেকটা দুর্বল হয়ে গেছে| কারণ, অতিরিক্ত শুল্কের চাপ কমানোর যুক্তিতেই বাংলাদেশ আলোচনায় বসেছিল| এখন সেই শুল্কই যদি আইনি ভিত্তি হারায়, তাহলে চুক্তির প্রয়োজনীয়তা এবং এর বাস্তব লাভ-ক্ষতির হিসাবও নতুন করে মূল্যায়নের দাবি রাখে|
পুনর্বিবেচনার সময় কি আসেনি?
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তি নিঃসন্দেহে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়| যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বড় রপ্তানি বাজার, বিনিয়োগ ও রেমিট্যান্সের গুরুত্বপূর্ণ উৎস| তাই সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন| তবে প্রশ্ন হলো সম্পর্ক কি সমতার ভিত্তিতে হবে, নাকি চাপের ভিত্তিতে? যে চুক্তিতে এক পক্ষকে ১৩১টি বাধ্যবাধকতা মানতে হয় এবং অন্য পক্ষকে মাত্র ৬টি, সেখানে ভারসাম্যের অভাব ¯পষ্ট|
চুক্তিটি ঘিরে অর্থনীতিবিদ, গবেষক এবং বামপšি’ রাজনৈতিক দলগুলোর বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে তীব্র সমালোচনা করেছে| তাদের ভাষায়, এটি একটি “অসম” এবং “জাতীয় ¯^ার্থবিরোধী” চুক্তি| সমালোচকদের মতে, চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের বাজার সুবিধা নিশ্চিত করা হলেও বাংলাদেশের জন্য বাস্তব সুবিধা তুলনামূলকভাবে সীমিত| বরং এতে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও নীতিগত চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে| বিশেষ করে চীন ও রাশিয়ার মতো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক ভবিষ্যতে জটিলতায় পড়তে পাওে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে| কারণ, চুক্তির কিছু ধারা ইঙ্গিত দেয় যে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ¯^ার্থ বিবেচনায় নিতে হবে| চুক্তির ভবিষ্যৎ এখনও পুরোপুরি ¯পষ্ট নয়| বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের রায়ের পর পরি¯ি’তি পরিবর্তিত হয়েছে এবং চুক্তি বাতিলও হয়ে যেতে পারে| অপরদিকে সাবেক বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানিয়েছেন, চুক্তিতে “এন্ট্রি” ও “এক্সিট” ধারা রয়েছে| ফলে প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ চাইলে চুক্তি থেকে বেরিয়েও আসতে পারে| বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের উচিত আলোচনার পথ খোলা রাখা, টিকফার মতো বিদ্যমান কাঠামো ব্যবহার করা এবং জাতীয় ¯^ার্থ অক্ষুণ্ন রেখে একটি গ্রহণযোগ্য ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান খোঁজা|

Posted ১২:১৬ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
Arthobiz | zaman zaman


