
| বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | 53 বার পঠিত

অর্থবিজ প্রতিবেদক :
ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাঈদ খোকন আইনের চোখ ফাঁকি দিতে ছদ্মবেশ ধারন করেছেন| গুপ্তস্থান থেকে কোম্পানির চেয়ারম্যানের অবৈধ দায়িত্ব পালন করছেন| পুলিশের খাতায় একজন পলাতক আসামী|
জানা গেছে, তিনি জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার পলাতক আসামী| গ্রেফতার এড়াতে তিনি পলাতক রয়েছেন| ছদ্মবেশ ধারন করে খুব গোপনীয় ভাবে চলাফেরা করেন| বেশি সময় একই স্থানে থাকেন না| তার চেহারা দেখে হটাৎ করে তাকে চেনার ঊপাায নেই| তার বিরুদ্ধে করপোরেট গভর্ন্যান্স লঙ্ঘন, বোর্ড পরিচালনায় অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে পৃথক তদন্ত করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)| দুটি সংস্থার তদন্ত শেষ হলেও এখনো তার বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি| এ কারনে তিনি আইন লংঘন করেই গুপ্তস্থান থেকেই বীমা কোম্পানিটি পরিচালনা করছেন| এ দিকে বীমা প্রতিষ্ঠানটিতে দীর্ঘ সময় আইডিআরএ অনুমোদিত কোন সিইও নেই| ভারপ্রাপ্ত সিইও দিয়ে বীমা প্রতিষ্টঠানটি পরিচালিত হচ্ছে| এ ক্ষেত্রেও বীমা আইন লংঘিত হলেও যেন এ সব দেখার কেউ নেই|
জানা গেছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে গত ২৪ জুন কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় সাঈদ খোকন অনলাইনে যুক্ত হয়ে সভায সভাপতিত্ব করেন| এই সভায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়| সভায় শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৬ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়|
জানা গেছে, পরিচালনা পর্ষদ ও বিভিন্ন কমিটির সভায় পরিচালকদের সশরীরে উপস্থিত থাকতে আইডিআরএ’র নির্দেশনা রিযেছে | এ কারণে সভায় চেয়ারম্যানের ভার্চুয়াল অংশগ্রহণ এবং সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তের আইনগত ˆবধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে|
অভিযোগ রয়েছে, জুলাই গণ অভ্যুত্থানে ছাত্র হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকলেও সাঈদ খোকন চেয়ারম্যান পদে বহাল রয়েছেন এবং অজ্ঞাত স্থান থেকে কোম্পানির কার্যক্রমে ভূূমিকা রাখছেন| অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় দুই বছর ধরে তিনি কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে না গেলেও বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে তার একক সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে| কযেকজন উদ্যোক্তা পরিচালকের অভিযোগের পর গত বছরের ৯ নভে¤^র বিএসইসি চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে| অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফারুক হোসেনের নেতৃত্বাধীন কমিটিকে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও তদন্ত শেষ হওয়ার পরও কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি|
তদন্তে চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘ ১৩ বছর সাঈদ খোকনের দায়িত্ব পালন, বোর্ড অনুমোদন ছাড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উদ্যোক্তা পরিচালক অপসারণ, পরিবারের সদস্যদের পরিচালক নিয়োগ, কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও অপসারণ, আত্মগোপনে থেকে কোম্পানি পরিচালনা এবং কোম্পানি আইন, বীমা আইন, সিকিউরিটিজ আইন ও করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়| একই বিষয়ে গত বছরের ১৩ নভে¤^র আইডিআরএ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান মাহফেল হক অ্যান্ড কোম্পানিকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়| এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও এখন পর্যন্ত তদন্তের ফলাফল বা পরবর্তী পদক্ষেপ প্রকাশ করা হয়নি|
বিএসইসিতে দেওয়া অভিযোগে সাত উদ্যোক্তা পরিচালক দাবি করেন, ২০১২ সালে চেয়ারম্যান হওয়ার পর সাঈদ খোকন কোম্পানিতে একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন| তারা অভিযোগ করেন,সাতজন স্পন্সর পরিচালককে অপসারণ করে চেয়ারম্যান তার পরিবারের সদস্য ও নিজ¯^ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেন| এর ফলে পারিবারিকভাবে সংশ্লিষ্ট পরিচালকরা প্রায় ৩০ দশমিক ৩৫ শতাংশ শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করছেন, যা প্রচলিত আইনের পরিপন্থী|
অভিযোগে আরও বলা হয়, চেয়ারম্যান নিজের সিদ্ধান্তে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা এবং কোম্পানি সচিব নিয়োগ ও অপসারণ করেছেন| এ কাজে কোম্পানির সচিব ও পরিচালক নুর মোহাম্মদ মামুন সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগকারীদের দাবি|
অভিযোগকারী পরিচালকেরা নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, অপসারিত উদ্যোক্তা পরিচালকদের পুনর্বহাল এবং পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে আইডিআরএর চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন এবং বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন|জানতে চাইলে আইডিআরএর উচ্চ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা জানান, চেয়ারম্যান না থাকায় অনেক বিষয়ই এতদিন সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়নি| যেহেতু নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ হয়েছে এখন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে|

Posted ২:৩৬ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
Arthobiz | zaman zaman


