
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৪ | প্রিন্ট | 368 বার পঠিত

অর্থবিজ প্রতিবেদক :
বীমা মুখ্য নির্বাহীদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরাম (বিআইএফ) নন-লাইফ বীমা খাতের কমিশন ব্যবস্থা বন্ধ চেয়েছে। নন-লাইফ বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহীদের নিয়ে বুধবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর দিলকুশায় পিপলস ভবনে আয়োজিত ফোরামের এক বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে মিডিয়ায় ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এস এম নুরুজ্জামানের পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিআইএফ’র প্রেসিডেন্ট ও পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বি এম ইউসুফ আলী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ও জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম নুরুজ্জামান।
সভায় বক্তব্য রাখেন সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শফিক শামীম, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী খাজা মঞ্জুর নাদিম, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী ডা. সারোয়ার জাহান জামিল, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী মো. শামীম হোসেন, তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী আবুল কালাম আজাদ, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী এস এম শহিদুল্লাহ, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী এএনএম ফয়জুল করিম মুন্সী এবং ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরন্সের মুখ্য নির্বাহী মো. সেলিম।
বৈঠকে নন-লাইফ বীমা কোম্পানির ব্যবসা উন্নয়নের বাধা দুর করতে সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শফিক শামীমকে আহবায়ক করে ১৬ সদস্য বিশিষ্ট নন-লাইফ টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়।
উল্লেখ্র, জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের ব্যবসায়ে কমিশন বীমা আইনে প্রণীত প্রবিধান দ্বারা একটি আইনসিদ্ধ বিষয়। বীমা আইনে ১৫ শতাংশ এজেন্ট কমিশন দেয়ার বিধান রয়েছে। এজেন্ট নিয়োগ দিবে বীমা কোম্পানি। কিন্তু বাস্তবে এজেন্টের তেমন কোন অস্তিত্ব নেই। বীমা কোম্পানিগুলো তাদের এক্সিকিউটিভদের মাধ্যমে ব্যবসা আনে। এই ব্যবসা আনতে যেয়ে তাদেরকে তাদের ক্লায়েন্টদেরকে বিশেষ করে ব্যাংক কর্মকর্তাদেরকে কমিশন দিতে হয়। এই কমিশন এজেন্টের নামে বিল দেখিয়ে যায়েজ করা হয়। কমিশন না দিলে উনারা ব্যবসা দেন না। ফলে অস্তিত্ব রক্ষায় বাধ্য হয়েই আইন অমান্য করে অতিরিক্ত কমিশন দিয়ে অর্থাৎ ক্ষেত্র বিশেষে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কমিশন দিয়ে ব্যবসা নিতে হয়। এমন অবস্থায় অতিরিক্ত কমিশন দিয়ে একে অন্যের ব্যবসা ভাগিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে। এতে বীমা কোম্পানিগুলো আর্থিক দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকান্ডকে অনৈতিক আখ্যা দিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা অবৈধ কমিশন দেয়া বন্ধ করতে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছে। বীমা ব্যবসায়িদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ) এ বিষয়ে একাধিকবার অবৈধ কমিশন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বীমা কোম্পানিগুলোও অবৈধ কমিশন দিয়ে আর ব্যবসা না করার একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কেউ এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি। একের দেখায় অন্যও অতিরিক্ত কমিশন দিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে। এতে কোম্পানিগুলো আর্থিক দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ম্যানেজমেন্ট কস্ট বেড়ে যাচ্ছে। সরকারও বীমা খাত থেকে কম রাজস্ব পাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরনের পথ খুজেঁ পেতে বীমা মুখ্য নির্বাহীদের সংগঠন বিআইএফ ৯ অক্টোবর বুধবার তাদের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক বৈঠকে বসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে পুরো কমিশন ব্যবস্থাটা কিছু দিনের জন্য হলেও স্থগিত চায়। এই সিদ্ধন্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে সংকট দুরিভূত হবে বলে মনে করছেন তারা।

Posted ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৪
Arthobiz | zaman zaman


