
নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৪ | প্রিন্ট | 132 বার পঠিত

অর্থবিজ প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ ব্যাংক নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় বেসরকারি ব্যাংক এনআরবিসি ব্যাংকটির দায়ি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের নিদের্শ দিয়েছে ব্যাংকটির কর্তৃপক্ষকে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। ব্যাংকটির বিরুদ্ধে অনিয়ম জালিয়াতি ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতার প্রমান পেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ব্যবস্থা নিয়েছে। অনিয়ম আড়াল করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে দীর্ঘদিন ধরে বিভ্রান্ত করে আসছিল ব্যাংকটির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক গোপন প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্বস্থ সুত্রে জানা যায়, ব্যাংকটির আলোচিত চেয়ারম্যান পারভেজ তমালের ইশারায় এসব অপকর্ম চলে। বিগত সরকারের প্রভাবশালীদের বলয়ে শক্ত সিন্ডিকেট গড়ে তুলে তমাল। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং তার অনুসারী কয়েকজন চিহ্নিত অপরাধীর সমন্বয়ে বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে কর্মকর্তা ও অংশীজনদের জিম্মি করে অপরাধ ধামাচাপা দেওয়া হতো। সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের ভগ্নিপতি সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে কোন প্রকার অভিজ্ঞতা ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে অনিয়মের বৈধতা দেওয়া হয়েছে। আরেক সাবেক গভর্নর ফজলে কবীরকে নানা সুবিধা দিয়ে সকল অপকর্ম ধামাচাপা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পৃথক তদন্ত এবং একাধিক নথিপত্র পর্যালোচনা করে এসব তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পাঠানো বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ সব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ব্যাংকের ও আর নিজাম রোড শাখার হিসাবধারী মো. রেজাউল বশির চৌধুরীর সঞ্চয়ী হিসাবে দীর্ঘ সময় ধরে সন্দেহজনক লেনদেন চিহ্নিত হওয়া সত্ত্বেও তা বাংলাদেশ ব্যাংকে রিপোর্ট না করে গোপন করা হয়েছে। অথচ আইন অনুযায়ী এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ ইউনিটকে জানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই অপারেধের জন্য ব্যাংকটিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ ৭ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।
এসব অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও শাস্তির আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালের ১৮মে থেকে ২০২২ সালের ৭ এপ্রিল সময়ে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখায় দায়িত্ব পালনকারী শাখা ব্যবস্থাপক, শাখা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা, ব্যাংকের প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা এবং মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সংঘটিত লেনদেনের সঙ্গে জড়িত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়-দায়িত্ব নিরুপণ করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। শাস্তি নিশ্চিতে ৩০ দিনের সময়সীমা বেধে দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকটির গোপনীয় আরও তথ্য খুজে পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। উদ্দেশ্যমূলকভাবে উদ্যোক্তা পরিচালক আবু বকর চৌধুরীর জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে গোপন করা হয়, যা ব্যাংকের অপরাপর নথি বিশ্লেষণে ধরা পরে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করার অপরাধে ব্যাংকের পরিচালক আবু বকর চৌধুরীসহ সকল পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এবং কোম্পানী সেক্রেটারীসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না সে বিষয়ে ১৪ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাকের নিরীক্ষায় দেখা যায়, ব্যাংকিং ব্যবসা পরিচালনায় যথাযথ শর্ত পালনে ব্যর্থ হয়েছে এনআরবিসি ব্যাংক। ব্যর্থতার কারণে অদক্ষতা ও দায়িত্বে অবহেলার দায়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১ মাসের মধ্যে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে বলা হয়েছে।

Posted ৫:৫৯ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৪
Arthobiz | zaman zaman


