বৃহস্পতিবার ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোনালি লাইফের বরখাস্তকৃত সিইও রাশেদ বিন আমান কারাগারে

  |   রবিবার, ১০ মার্চ ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   103 বার পঠিত

সোনালি লাইফের বরখাস্তকৃত সিইও   রাশেদ বিন আমান কারাগারে

অর্থবিজ ডেস্ক :
দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান সোনালি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের বরখাস্তকৃত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মীর রাশেদ বিন আমান কোম্পানির করা অর্থ আত্মসাৎ মামলায় কারাগারে গেছেন।
ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোম্পানির পক্ষ থেকে করা মামলায় জামিনে ছিলেন রাশেদ আমান । জামিনের মেয়াদ শেষে আদালতে উপস্থিত হয়ে পুনরায় জামিন আবেদন করলে তার আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয় তাকে।
কোম্পানির তহবিল থেকে অর্থ লোপাটসহ বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনায় আছে সোনালি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। অর্থ আত্মসাৎ ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগে কোম্পানিটির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মীর রাশেদ বিন আমানকে বরখাস্ত করে সোনালি লাইফের পরিচালনা পর্ষদ। সোনালি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দেড়শ কোটি টাকা আত্মসাৎসহ প্রতিষ্ঠানটিতে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে মীর রাশেদ বিন আমানের বিরুদ্ধে।
অর্থ লোপাটের অভিযোগে মীর রাশেদকে প্রধান আসামি করে কোম্পানির পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়। রাজধানীর রামপুরা থানায় দায়ের করা মামলায় তার বিরুদ্ধে জারি হয় গ্রেফতারি পরোয়ানা। তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মাধ্যমে বিদেশে বাড়ি-গাড়ি কেনারও অভিযোগ উঠেছে। দেশেও কিনেছেন বিলাস বহুল অ্যাপার্টমেন্ট। কোম্পানির কর্মচারীদের ভয় ভীতি দেখিয়ে নিজের পক্ষে কাজ করতে বাধ্য করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অন্যদিকে কোম্পানির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে (আইডিআরএ) অভিযোগ করেন বরখা¯কৃত সিইও রাশেদ বিন আমান।
এ সংক্রান্ত গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ২৭ জুন মীর রাশেদ বিন আমান কোম্পানি থেকে অবৈধভাবে ১ কোটি ও ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন করে নিজ অ্যাকাউন্টে জমা ও আত্মসাৎ করেন। অস্ট্রেলিয়া থেকে পড়াশোনা শেষ করে এসে মীর রাশেদ বিন আমান শ্বশুর গোলমা কুদ্দুসের প্রতিষ্ঠিত সোনালি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হন। এরপর এই পদ ব্যবহার করে দুর্নীতি, নানা অনিয়ম ও নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মীর রাশেদ বিন আমান কোন প্রকার বৈধ কাগজ পত্র ছাড়াই বেতনের বাইরে কোম্পানি থেকে নিজের বিভিন্ন ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ২০২০ সালে ৩ কোটি ৯৯ লাখ, ২০২১ সালে ৬ কোটি ৯৫ হাজার, ২০২২ সালে ১ কোটি ২১ লাখ এবং ২০২৩ সালে ৩ কোটি ৮ লাখ টাকা সরিয়েছেন। এ ছাড়াও সিইও হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর বিভিন্ন ভাবে কোম্পানির কোটি কোটি টাকা নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানানন্তর করেন মীর রাশেদ বিন আমান। এসবের বাইরে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে মীর রাশেদ বিন আমানের বিরুদ্ধে ৭০ টিরও বেশি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৮:১৪ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১০ মার্চ ২০২৪

Arthobiz |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক : অহিদুজ্জামান মিঞা
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: খান ম্যানশন, ৮-ই, ২৮/এ-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ইমেইল: arthobiz61@gmail.com
যোগাযোগ: 01670045191