বৃহস্পতিবার ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামী ইন্স্যুরেন্সে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়ম

  |   শনিবার, ২০ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   36 বার পঠিত

ইসলামী ইন্স্যুরেন্সে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়ম

অহিদুজ্জামান মিঞা :-
দেশের বেসরকারি খাতে পরিচালিত নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেডে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ পাওয় গেছে| কোম্পানির পলাতক চেয়ারম্যান সাঈদ খোকন এখনো বীমা কোম্পানিটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন| প্রায় দুই বছর অজ্ঞাত স্থান থেকে তিনি কোম্পানি পরিচালনা করছেন| ’২৪-এর ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন| তিনি একজন সাবেক সংসদ সদস্য| তার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে একাধিক মামলা রয়েছে|
জানা গেছে, গ্রেফতার এড়াতে ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাঈদ খোকন দীর্ঘ দিন পালিয়ে আছেন| তিনি দেশে না বিদেশে অবস্থান করছেন, এ ব্যাপারে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি| তবে তিনি পলাতক থাকলেও বীমা কোম্পানিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন| কিন্তু কি ভাবে এটি সম্ভব, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে| তিনি প্রায় দু’বছর অফিসে আসেন না| কোন বোর্ড সভায় ¯^শরীরে উপস্থিত হন না| অথচ পরপর তিনটি বোর্ড সভায় কোন পরিচালক অনুপস্থিত থাকলে তার পরিচালকের পদ শূন্য হয়ে যায়| পরিচালকের পদ শূন্য হলে তার চেয়ারম্যান পদও থাকবে না| তিনি পালিয়ে থাকলেও পর্দার অন্তরাল থেকে বীমা কোম্পানিটি পরিচালনা করছেন| বীমা কোম্পানিটির প্রতিটি বোর্ড সভায় তাকে উপস্থিত দেখানো হচ্ছে| সভার কার্যবিবরনীতে তার ¯^াক্ষর নেয়া হচ্ছে| তবে কোন বোর্ড সভার সচিত্র সংবাদ মিডিয়ায় প্রকাশ করা হচ্ছে না|
জানা গেছে, ইতোমধ্যে তার প্রতিষ্ঠানের সাবেক সিইও আব্দুল খালেক চাকরি হারিয়েছেন| তার বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ| পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মইনুল হাসান চৌধুরী ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন| তাকে এখনো পূর্নাঙ্গ এমডি করা হয়নি| বীমা কর্তৃপক্ষেরও কোন অনুমোদন নেই| অনুমোদন ছাড়াই তিনি দীর্ঘ সময় এ ভাবেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন| এতে প্রচলিত বীমা আইনের বরখেলাফ হচ্ছে| এ অবস্থায়ও তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে|
জানা গেছে, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সাবেক সংসদ সদস্য সাঈদ খোকন জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা এবং দলের শীর্ষ পর্যায়ের অন্যান্য নেতাদের মতো তিনিও পালিয়েছেন| তিনি বর্তমানে দেশে না বিদেশে অবস্থান করছেন, এ ব্যাপারে কোন সুনিদিষ্ট তথ্য দিতে পারে নাই তার নেতৃত্বে পরিচালিত বীমা কোম্পানিটির ম্যানেজমেন্টের কোন কর্মকর্তা| তবে এ টুকু জানা গেছে, তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, কোম্পানিটি পরিচালনার হাল কারো হাতে ছেড়ে দেন নি| তিনি অজ্ঞাত স্থানে থেকে বীমা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন এবং সব ধরনের আর্থিক সুযোগ সুবিধা লুফে নিচ্ছেন| ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে|
বীমা কোম্পানিটির ওয়েভ সাইটে দেয়া তথ্য অনুযায়ি সাঈদ খোকন এখনো পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান| কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদে নূর মোহাম্মদ ভাইস চেয়ারম্যান ও উদ্যোক্তা পরিচালক এবং ফারহানা সাঈদ উদ্যোক্তা পরিচালক| পরিচালক পদে আরও রয়েছেন উদ্যোক্তা পরিচালক আলহাজ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান | এ ছাড়া পর্ষদের পরিচালক পদে অন্যান্য সদস্যরা হলেন, মোহাম্মদ মোরতুজা কামাল, নোসতারিন জামিলা, রেজওয়ানা হোসাইন, শুহানা ইসতাইক, আলহাজ মো. ইসমাইল নওয়াব, মোহাম্মদ সাদেক, মো. হাবিবুর রহমান, শাহানা হানিফ, রীপা নানজিবা সাঈদ, মাহমুদা নাসিম, আয়েশা নিভরাজ সাঈদ, ফাতিমা নওশিন মায়শা সাঈদ ও আকিলা নাজনীন|
জানা গেছে, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের অধিকাংশই তার পরিবারের সদস্য এবং অন্যরা হচ্ছেন তার মালিকানাধীন শেয়ার হোল্ডার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচালক| এ কারনে পরিচালনা পর্ষদে রয়েছে তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রন| তিনি পলাতক থেকেও বীমা কোম্পানিটি পরিচালনায় কোন অসুবিধা হচ্ছে না| তার ইচ্ছার বাইরে কিছুই হচ্ছে না| নিজেদের আথির্ক সুবিধা লুফে নিতে বোর্ড সভায় কোন সিদ্ধান্ত নিতেও কোন অসুবিধা হয় না| অথচ অনেক বীমা দাবী সিদ্ধান্তহীনতায় দীর্ঘদিন বকেয়া পরে আছে| বীমা গ্রাহকরা অফিসে ধর্ণা দিয়েও তাদের ক্লেইম পাচ্ছে না| সাধারণ বীমার বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে না|
তিনি পলাতক থেকেই বীমা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছেন এবং কোম্পানি থেকে নিয়মবহির্ভূত ভাবে সবধরনের আর্থিক সুবিধা লুফে নিচ্ছেন| তার এই অনৈতিক কাজে সবধরনের সহযোগিতা করছেন কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মইনুল হাসান চৌধুরী| সাঈদ খোকনের সঙ্গে কোম্পানিটির সিইও মো. মইনুল হাসান চৌধুরী এবং কোম্পানি সেক্রেটারি চৌধুরী এহ&সানুল হক সার্বক্ষনিক যোগযোগ রক্ষা করে চলেছেন| চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির সুযোগে কোম্পানিতে তারা অনেকটা একচ্ছত্র ক্ষমতাধর হয়ে উঠেছেন| লাগামহীন ভাবে অনিয়ম দুর্নীতি করে যাচ্ছেন| আন্ডার রেটে ব্যবসা, কাভারনোট জালিয়াতি, অতিরিক্ত কমিশন দিয়ে ব্যবসা করা, বাকীতে ব্যবসা করা, ভূয়াা ক্লেইম পরিশোধ ও ভ্যাটের টাকা পরিশোধ দেখিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগও উঠেছে| এ ছাড়া অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়সহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে|
ঈদুল ফিতরের আগে ভূয়া বেতন ভাতার বিল করে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে| এই টাকা থেকে চেয়ারম্যান ও কয়েকজন পরিচালককে মোটা অংকের ঈদ বোনাস দেয়া হয়েছে | এ ছাড়া প্রায় ২৬ লাখ টাকার ভূয়া ক্লেইম সেটেলমেন্ট দেখিয়ে সমস্ত টাকা চেয়ারম্যান পরিচালক ও ম্যানেজমেন্টের শীর্ষ কর্মকর্তারা ভাগ করে নিয়েছেন|
বীমা কোম্পানিটির বিরুদ্ধে আন্ডার রেটে বীমা করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে| প্রাণ গ্রুপের অধিকাংশ বীমা এই কোম্পানি করে থাকে| এ সব ব্যবসার অধিকাংশই আন্ডার রেটে করা হয়| এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কমিশন প্রদান, কাভার নোট জালিয়াতিও করা হচ্ছে| এমন একটি অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে| কোম্পানিটির ১৩ কোটি টাকার বীমা পলিসির বিপরিতে মাত্র ৩ কোটি টাকার প্রিমিয়াম নিয়ে বাকি ১০ কোটি টাকা কমিশন সমš^য় দেখানো হয়েছে|
জানা গেছে, বীমা কোম্পানিটির গ্রাহকরা তাদের দাবীকৃত ক্লেইম পেতে মাসের পর মাস বছরের পর বছর ঘুরছে| নানা অজুহাত দেখিয়ে তাদের ক্লেইম দেয়া হচ্ছে না| কোম্পানিটির কাছে সাধারণ বীমার মোটা অংকের পূনঃবীমা দাবী বকেয়া রয়েছে| অথচ কোম্পানির চেয়ারম্যান সাঈদ খোকনের ব্যাক্তিগত সম্পদের ক্ষতির বিপরিতে দাবীকৃত ২০ কোটি টাকার একটি ক্লেইম সেটেলমেন্ট করা হয়েছে|
এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কোম্পানিটির এমডি মাইনুল হাসান চৌধুরীর মোবাইলে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি| ফলে কোম্পানির কোন বক্তব্য দেয়া সম্ভব হলো না|

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১:০৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

Arthobiz |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক : অহিদুজ্জামান মিঞা
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: খান ম্যানশন, ৮-ই, ২৮/এ-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ইমেইল: arthobiz61@gmail.com
যোগাযোগ: 01670045191