
| বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | 38 বার পঠিত

অর্থবিজ প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ ব্যাংক আবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনেছে | বুধবার (১৫ এপ্রিল) একটি ব্যাংক থেকে ৭ কোটি ডলার কেনা হয়েছে| এর আগে সর্বশেষ ২ মার্চ দুটি ব্যাংক থেকে আড়াই কোটি ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক| বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান|
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে কেনা হয়, যা আগের দিনের ১২২ টাকা ৩০ পয়সার তুলনায় বেশি| চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫৫৬ কোটি ডলার (৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন) কেনা হয়েছে|
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, ইরান যুদ্ধ ঘিরে অনিশ্চয়তায় ব্যাংকগুলোর মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ˆতরি হয়েছিল| ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা আগাম বকেয়া পরিশোধ শুরু করে| এতে বাজারে ডলারের ওপর চাপ ˆতরি হয়ে দর কিছুটা বেড়ে যায়| এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কেনা থেকে বিরত ছিল, যদিও বাজারে ডলারের ঘাটতি ছিল না| বর্তমানে বকেয়া পরিশোধের চাপ কমে আসায় ডলারের দরও নিম্নমুখী| ফলে আবার ডলার কেনা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক|
এদিকে প্রবাসী আয় বাড়ায় ব্যাংকগুলোর ডলার প্রবাহও বেড়েছে| বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের প্রথম ১৪ দিনে দেশে ১৬০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি| চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৭৮১ কোটি ডলার—আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি|
সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংক বেশি দামে ডলার কেনায় বাজারে দর কিছুটা বেড়ে যায়| এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মৌখিকভাবে সতর্ক করার পাশাপাশি ডলারের সর্বোচ্চ দর নির্ধারণ করে দেয়| নির্দেশনা অনুযায়ী, আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য ১২২ টাকা ৭০ পয়সা এবং এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে রেমিট্যান্স কেনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দর ১২২ টাকা ৯০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে|
রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনার ফলে ˆবদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে| বর্তমানে দেশের মোট রিজার্ভ ৩৪ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার| তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার|
উল্লেখ্য, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ২০২২ সাল থেকে দেশে ডলারের দাম বাড়তে শুরু করে| এতে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে বড় ব্যবধান ˆতরি হয় এবং ডলারের দর ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছায়| এর প্রভাবে দেশে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়| রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেও বাজার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি|
পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার অর্থপাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়| একই সময়ে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয় বাড়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহও বৃদ্ধি পায়| সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে ডলারের দর কমে যাওয়ার কথা থাকলেও, গত জুলাই থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কিনে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে| যদিও সাম্প্রতিক সময়ে রপ্তানি আয়ে কিছুটা পতন লক্ষ্য করা গেছে|
বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিদিন প্রধান বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর মুদ্রার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে| পাশাপাশি দেশীয় বাজারে ডলারের সরবরাহ, চাহিদা ও দর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে| এ লক্ষ্যে প্রতিদিন সকালে ডলারের রেফারেন্স রেট প্রকাশ করা হয়| কোনো কারণে বাজারদর নির্ধারিত রেটের নিচে নেমে এলে ডলার কেনার জন্য নিলাম ডাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক|
মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে বাজারে ডলারের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি| ডলারের দর অ¯^াভাবিকভাবে কমে যাওয়া ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনছে, যাতে বাজারে ভারসাম্য বজায় থাকে| তিনি আরও জানান, ডলারের দর কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে| ডলার কেনার ফলে ˆবদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী হচ্ছে|

Posted ৬:১১ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
Arthobiz | zaman zaman


