বুধবার ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পূর্বাচলে গণসংবর্ধনা

১৭ বছর পর স্বদেশের মাটিতে তারেক রহমান

  |   বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   71 বার পঠিত

১৭ বছর পর স্বদেশের মাটিতে তারেক রহমান

অহিদুজ্জামান মিঞা
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন জীবন শেষে আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশে ফিরে এসেছেন। তার স্বদেশে প্রত্যার্বত্যন উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে তাকে দেয়া হয় গণসংবর্ধনা।
দলের প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখতে এবং রাজধানীর ৩০০ ফিটে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সারাদেশ থেকে দলের হাজার হাজার নেতা কর্মী বুধবার থেকে রাজধানীতে আসতে থাকেন। পূর্বচলের ৩০০ ফিট এলাকা একটি জনসমূদ্রে পরিনত হয়। দুর দুরান্ত থেকে আসা বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতা কর্মী প্রচন্ড ঠান্ডা উপেক্ষা করে খোলা আকাশের নিচে রাত কাঠান। আজ সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে তাকে বহনকারি বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহ্ জালাল আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দরে অবতরন করে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান। দেশের মাটিতে নেমে তিনি খালি পায়ে মাটি স্পর্শ করেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনুসের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টার শারীরিক কুশলাদির খোঁজখবর নেন এবং তার নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়ায় তাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বিমান বন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি ৩০০ ফিটে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থলে পৌছেন। উৎসুক জনতার ভীড় ঠেলে বিমান বন্দর থেকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থলে পৌছেতে তার দীর্ঘ সময় লেগে যায়। লালসবুজ রংয়ে সজ্জিত বুলেট প্রুপ একটি বাসে করে তিনি বিমান বন্দর থেকে অনুষ্ঠানস্থলে আসার সময়ে রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধ হয়ে দাড়িয়ে থাকা বিপুল সংখ্যক নেতা কর্মী ও জনতা করতালি ও শ্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। এ সময় তিনিও বাসের ভিতর দাড়িয়ে দু’হাত নেড়ে তাদেরকে শুভেচ্ছা জানান। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে অসুস্থ মাকে দেখতে তিনি এভার কেয়ার হাসপাতালে এবং সেখান থেকে গুলশানের বাসায় যান। তারেক রহমানের নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যক সেনা পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন ছিল। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে বিমান বন্দর থেকে পূর্বাচলে নিয়ে আসা হয়|


দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে প্রিয় জন্মভূমিতে ফিরে ঐতিহাসিক ভাষণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবাদবিরোধী অবিসংবাদী নেতা মার্টিন লুথার কিং এর একটি বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আমার একটি পরিকল্পনা আছে, দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে প্রতিটি মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। তিনি সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা চান।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৭১ সালের মতো ২০২৪ সালে এ দেশের ছাত্র-জনতাসহ সর্বশ্রেণির মানুষ দেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছিল। আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকে আমাদের নেতাকে স্বাগত জানাচ্ছি। তিনি দূর থেকে প্রায় দেড় যুগ আমাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমরা গণতন্ত্র উত্তরণের কঠিন পথগুলো পার করেছি তার নেতৃত্বে।

সকাল থেকেই রাজধানী ও আশপাশের জেলা থেকে আসা লাখো মানুষের উপস্থিতিতে ৩০০ ফিট এলাকা এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা। মঞ্চে ওঠার পর তারেক রহমান হাত নেড়ে জনতাকে অভিবাদন জানান। এর আগে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ‘বিজি ২০২’ ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ পেরিয়ে মাটি ছুঁয়ে দেশের মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নেন তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।


বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে কড়া নিরাপত্তায় বুলেটপ্রুফ বাসে করে, রাস্তার দুপাশে দাঁড়ানো লাখ লাখ নেতাকর্মীর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে এবং জনতার উত্তাল তরঙ্গ পেরিয়ে ৩০০ ফিট সড়ক সংলগ্ন বিশাল গণঅভ্যর্থনার মঞ্চে উপস্থিত হন তারেক রহমান।
এর আগে লাল-সবুজ রঙে সাজানো একটি বাসে করে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি পূর্বাচলে গণসংবর্ধনাস্থলে পৌঁছান তারেক রহমানকে বহনকারী গাড়িবহর। বেলা ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি মঞ্চে ওঠেন। মঞ্চে উঠে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে হাত নাড়েন তিনি। বেলা ৩টা ৫৭ মিনিটে ‘প্রিয় বাংলাদেশ’ সম্বোধনের মাধ্যমে তার বক্তব্য শুরু করেন। এ সময় মঞ্চে বিএনপির জাতীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে বলেন, ‘৭১-এ দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪ সালেও ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, গৃহবধূসহ সর্বস্তরের মানুষ একইভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছে। বাংলাদেশের মানুষ আজ কথা বলার ও গণতন্ত্রের অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার চায়।’তিনি আরও স্মরণ করেন ৭৫-এর ৭ই নভেম্বর আধিপত্যবাদীদের হাত থেকে দেশ রক্ষা এবং ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের কথা।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যা একজন মা স্বপ্ন দেখেন—একটি নিরাপদ বাংলাদেশ। সেখানে নারী, পুরুষ বা শিশু যেই হোক না কেন, নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে যেন নিরাপদে ঘরে ফিরে আসতে পারে।’
তিনি দেশের জনসংখ্যার বৈচিত্র্য তুলে ধরে বলেন, ‘দেশে ৪ কোটির বেশি তরুণ, ৫ কোটির মতো শিশু, ৪০ লক্ষ প্রতিবন্ধী এবং কোটি কোটি কৃষক-শ্রমিক রয়েছেন। এই লক্ষ কোটি মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
বিগত ১৫ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গুম-খুনের শিকার রাজনৈতিক কর্মী ও নিরীহ মানুষের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৪-এর আন্দোলনে তরুণ প্রজন্মের সাহসী সদস্য ওসমান হাদি শহীদ হয়েছেন। তার মতো শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে হবে। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আধিপত্যবাদী শক্তির গুপ্তচরেরা এখনও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আমাদের ধৈর্য ধারণ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে দায়িত্ব নিতে হবে যাতে শক্ত গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দেশকে গড়ে তোলা যায়।’

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তারেক রহমান তার মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কথা উল্লেখ করে আবেগাপ্লুত হন। তিনি বলেন, ‘সন্তান হিসেবে আমার মন মায়ের হাসপাতালের বিছানার পাশে পড়ে আছে। কিন্তু তিনি যাদের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই মানুষগুলোকে ফেলে আমি যেতে পারি না। সেজন্য হাসপাতালে যাওয়ার আগে আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছি।’ তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।
সবশেষে তিনি যেকোনো উস্কানির মুখে ধৈর্য ও শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে আমাদের দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। কোনো বিশৃঙ্খলা করা যাবে না। ধর্ম, দল বা শ্রেণী নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যেন নিরাপদ থাকে, এটাই হোক আমাদের চাওয়া।”বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ ও ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

 

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৭:২২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

Arthobiz |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক : অহিদুজ্জামান মিঞা
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: খান ম্যানশন, ৮-ই, ২৮/এ-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ইমেইল: arthobiz61@gmail.com
যোগাযোগ: 01670045191