বুধবার ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামী ব্যাংকে অবৈধ নিয়োগ বাতিলের দাবিতে গ্রাহকদের মানববন্ধন

  |   সোমবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   135 বার পঠিত

ইসলামী ব্যাংকে অবৈধ নিয়োগ বাতিলের দাবিতে গ্রাহকদের মানববন্ধন

অর্থবিজ প্রতিবেদক :
রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে আজ সোমবার (৬ অক্টোবর) এস আলমের সময়ে অবৈধ নিয়োগ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে এই কর্মসূচী পালন করা হয়। রাজধানী ঢাকার বাইরেও ইসলামী ব্যাংকের প্রতিটি শাখার সামনে অনুরুপ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচী পালন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সমাবেশে বক্তারা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতি আলটিমেটাম দিয়ে বলেছেন, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে অবৈধ কর্মকর্তাদের অপসারণ করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচী দেয়া হবে। তারা বলেন, এসব অদক্ষ কর্মকর্তা ব্যাংককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
প্রধান কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অনেকে বক্তব্য দেন। এদের মধ্যে ছিলেন মো. মোহতাছিম বিল্লাহ, হাফিজুর রহমান, ইমাম হোসাইন, মাহমুদুল হাসান, এটিএম সিরাজুল হক, ড. হারুনুর রশিদ, মো. মুস্তাফিজুর রহমান ও মো. রতন প্রমুখ।
সমাবেশে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম, সচেতন ব্যবসায়ী ফোরাম, ইসলামী ব্যাংক প্রাক্তন ব্যাংকার পরিষদ, বৈষম্যবিরোধী চাকুরী প্রত্যাশী পরিষদ, সচেতন পেশাজীবী গ্রুপ, ইসলামী ব্যাংক সিবিএ, সচেতন ব্যাংকার সমাজ নামের আরও কয়েকটি সংগঠন অংশ নিয়ে আন্দোলনকারিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে।
বক্তারা এস আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, এস আলম ২০১৭ সালে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ইসলামী ব্যাংক দখল করেন। তারা ব্যাংক থেকে বৈধ মালিকদের ভয় দেখিয়ে সরিয়ে দেন। বিদেশী শেয়ারহোল্ডারদেরও নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিতাড়ন করা হয়। এস আলম ইসলামী ব্যাংক দখলের পর ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৭২২৪ জনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়েছেন। এর মধ্যে শুধু পটিয়া উপজেলারই ৪৫০০ জনের বেশি লোক রয়েছে। সারা দেশের চাকরিপ্রার্থীরা এভাবে বঞ্চিত হয়েছেন। এর ফলে ব্যাংকের শৃঙ্খলা চরমভাবে ভেঙে পড়েছে। ২০২৪ সালের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত ব্যাংকের দেড় শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জোর করে অবসরে পাঠানো হয়। অনেককে বরখাস্ত করা হয়।
নূরুল হক নামে একজন ড্রাইভার তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, এইচআরের একজন প্রতিনিধি তাকে পদত্যাগপত্র জমা দিতে বলেন। বলা হয়, পদত্যাগ না করলে তিনি সার্ভিস বেনিফিট পাবেন না। বাধ্য হয়ে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। খলিল, আব্দুর রহমান, আব্দুল মোমিন ও দেলোয়ারসহ কয়েকশ নিম্নপদস্থ কর্মচারী এভাবে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। ড্রাইভার, মেসেঞ্জার ও ক্লিনারসহ বেশ কিছু নির্বাহীও জোরপূর্বক অবসরে যান। তাদের সবার চাকরির বয়স আরও পাঁচ বছর বাকি ছিল। তিনি জানান, এস আলমের পিএস আকিজ উদ্দিন পটিয়া উপজেলা থেকে লোক নিয়োগের জন্য এ কাজগুলো করেছিলেন।
উল্লেখ্য, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অবৈধ কর্মকর্তাদের যোগ্যতা মূল্যায়নের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র মাধ্যমে একটি পরীক্ষা নেয়। পরীক্ষাটি ছিল ২৭ সেপ্টেম্বর। ওই দিন ৫৩৮৫ জন কর্মকর্তাকে মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নিতে বলা হয়। এদের মধ্যে ৪৯৭১ জন পরীক্ষায় অংশ নিতে অস্বীকার করেন। মাত্র ৪১৪ জন কর্মকর্তা পরীক্ষায় অংশ নেন। যারা পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, ব্যাংক তাদের ওএসডি করেছে। এছাড়াও বিদ্রোহী ৪০০ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত তাদের অপারেশনাল কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

 

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৭:২৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৫

Arthobiz |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement
সম্পাদক : অহিদুজ্জামান মিঞা
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: খান ম্যানশন, ৮-ই, ২৮/এ-৫, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০।
ইমেইল: arthobiz61@gmail.com
যোগাযোগ: 01670045191