
| বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট | 46 বার পঠিত

বাংলাদেশে বীমা সেক্টরে দীর্ঘদিনের বিরাজমান সমস্যা নিয়ে সরকার এবং খাত সংশ্লিষ্টরা উদ্বিগ্ন। সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষের নজরেও বিষয়টি এসেছে। কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তা নিকট অতিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, বীমা খাত খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে। তার এই বক্তব্য স্পষ্ট করেছে, বীমা সেক্টর সত্যি কতটা নাজুক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। এ বক্তব্য শুনে আমরা কিছুটা হলেও আশ্বস্থ হয়েছিলাম, সমস্যাটি যেহেতু কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে, এখন এর একটি সমাধানের পথ খুঁেজ বের করা হবে। অথচ এ ধরনের বক্তব্য দেয়ার পর একটি লম্বা সময় অতিবাহিত হলেও সমস্যা সমাধানে কোন আশার আলো খাত সংশ্লিষ্টরা দেখতে পাচ্ছেন না।
লাইফ ইন্স্যুরেন্সে সমস্যা গ্রাহকরা বীমা দাবী সময় মতো পাচ্ছে না। কিছু কোম্পানির বীমা দাবী পরিশোধ করার মতো সক্ষমতা নেই। গ্রাহকরা বছরের পর বছর সংশ্লিষ্টদের কাছে ধর্ণা দিয়ে আশ্বস্থ হতে পারছে না। গুটি কয়েক কোম্পানির অনৈতিক কর্মকান্ডে দেশের সম্ভাবনাময় বীমা সেক্টরটি কি তাহলে ধ্বংস হয়ে যাবে। যারা গ্রাহকদের অর্থ লুটে নিয়েছে, তাদের ব্যাক্তিগত সম্পত্তি বিক্রয় করে হলেও গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ করা উচিৎ। জনগনকে আস্থায় আনতে না পারলে এ সেক্টর টিকে থাকবে না।
নন- লাইফ ইন্স্যুরেন্সে সমস্যা আরও জটিল । এখানে অবৈধ কমিশন বাণিজ্যে এ খাতটিকে সংকটে ফেলেছে। ব্যবসা পেতে নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত কমিশন দিয়ে ব্যবসা করার অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধের দাবী উঠেছে দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু কে শুনে কার কথা। প্রতিশ্রুতি দেয়ে কেউ কথা রাখে না। একের দেখায় অন্য অনিয়ম করতে বাধ্য হচ্ছে। ১৫ শতাংশ কমিশনের স্থলে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কমিশন দিয়ে ব্যবসা করছে। এতে নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো কোমড় সোজা করে দাড়াতে পারছে না। এর একটি গ্রহন যোগ্য সমাধান খুঁজে বের করা দরকার। নিয়ন্ত্রক সংস্থা একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েও কোন সমাধান করতে পারে নাই। আসলে সমাধান বীমা কোম্পানিগুলোকেই করতে হবে। আশার কথা বীমা কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হবার পর এবার বীমা কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ বীমা এসোসিয়েশন (বিআইএ) এবং বীমা মুখ্য নির্বহিীদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরাম (বিআইএফ) এগিয়ে এসেছে। বিআইএফ অতি সম্প্রতি বীমা মুখ্য নির্বাহীদের এক সভায় অতিরিক্ত কমিশন দিয়ে ব্যবসা না করার জোরালো আহবান জানিয়েছেন। বিআইএফ’র এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। পাশাপাশি বিআইএ সংগঠনের এক বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বিআইএ’র প্রেসিডেন্ট এ ধরনের অনৈতিক ব্যবসার ভয়াবহ পরিনতি সম্পর্কে সকলকে সতর্ক করে দিয়ে যে কোন প্রকারে অতিরিক্ত কমিশন দেয়া বন্ধ করার আহবান জানিয়েছেন। সভায় তিনি শুধুমাত্র আহবানই জানাননি, সকলের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায়েরও চেষ্টা করেছেন। তবে তার এই প্রচেষ্টায় কেউ কেউ ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন। যারা ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন, তাদের উদ্দেশে আমরা বলতে চাই, কমিশন বন্ধের প্রস্তাব কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগত ত্রুটি থাকতে পারে, সেটি আলোচনা করে চূড়ান্ত করা যেতে পারে, তবে এই উদ্যোগকে ভন্ডুল করবেন না। তাহলে এর ভয়াবহ পরিনতির শিকার আপনিও হতে পারেন। বিআইএ’র এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। আশা করব, এই প্রচেষ্টা মাঝ পথে থেমে যাবে না। আমরা আমাদের পত্রিকার গত সংখ্যায় ”নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবসা, লাভের গুড় খেয়ে ফেলছে পিপঁড়ায়” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছেপেছিলাম। সেখানে বলা হয়েছে, নন-লাইফের মুনাফা চলে যাচ্ছে একটি মধ্যস্বত্যভোগির পকেটে। আপনরা সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকলে তারা এ সুযোগ লুফে নিতে পারবে না। আমরা যে কোম্পানিতে যাই, সে কোম্পানির এমডি সাহেব বলেন, আপনারা একটু লেখালেখি করেন। এ অবস্থা বন্ধ না হলে কোম্পানি টিকে থাকবে না। কোন কোন নন-লাইফ বীমা কোম্পানি সময় মতো বেতন দিতে পারছে না। ফলে এ অবস্থার পরিবর্তন হওয়া খুবই জরুরি।

Posted ১:০৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
Arthobiz | zaman zaman


