
| রবিবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 133 বার পঠিত

অর্থবিজ প্রতিবেদক :
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাউথইস্ট ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর কবির, তার পুত্র রাইয়ান কবির, পুত্রবধূ নুসরাত নাহার ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে কমিশন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন—বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, উপ-পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও সহকারী পরিচালক রানা দাশ।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) গোয়েন্দা প্রতিবেদনে প্রি-আইপিও প্লেসমেন্ট শেয়ার ক্রয় এবং সেকেন্ডারি মার্কেটের লেনদেনের আড়ালে ঋণ জালিয়াতি, সন্দেহজনক লেনদেন ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব কর্মকাণ্ডে আলমগীর কবির, তার ছেলে রাইয়ান কবির, পুত্রবধূ নুসরাত নাহার ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে।
বিএসইসি মনে করছে, পুঁজিবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে অভিযোগগুলো তদন্ত করা জরুরি। সে লক্ষ্যে কমিশন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯ এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
কমিটি বিএফআইইউর প্রতিবেদনে উল্লিখিত অর্থের পরিমাণ, সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা এবং পুঁজিবাজারে প্রভাব ফেলতে পারে এমন অনিয়ম যাচাই করবে।
গত ২০ জুলাই ব্যক্তিগত ও অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেন আলমগীর কবির। তিনি ২০০৪ সাল থেকে টানা ২০ বছর ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ঋণ অনিয়ম ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পর্ষদে যুক্ত করার অভিযোগ রয়েছে।
সরকার পরিবর্তনের পর গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন এম এ কাশেম। তবে আলমগীর কবির এতদিন পরিচালক পদে ছিলেন।
২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর বে লিজিংয়ের শেয়ার লেনদেনে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে আলমগীর কবিরকে ১২ কোটি টাকা জরিমানা করে বিএসইসি। একই ঘটনায় তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগমকে পাঁচ কোটি এবং জামাতা তুষার এল কে মিয়াকে আড়াই কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া গত ১৪ জুলাই দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আলমগীর কবিরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
বিগত সরকারের সময় পুঁজিবাজারে অনিয়মে জড়িত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তেমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন নতুন বিএসইসি কমিশন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

Posted ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৫
Arthobiz | zaman zaman


