
| বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 168 বার পঠিত

অর্থবিজ প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ তাকাফুল সোসাইটির (বিটিএস) উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক এক আলোচনা সভা এবং ইফতার মাহফিল আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রাজধানীর মতিঝিলের কালবার্ড রোডের রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্সের রুপটফে সেন্ট্রাল ইন রেস্টুরেন্টে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ তাকাফুল সোসাইটির চেয়ারম্যান ড.আ.ই.ম. নেছার উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পিএলসি’র চেয়ারম্যান জনাব তোফাজ্জল হোসেন। প্রধান আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মানারত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রুহুল আমিন রব্বানী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বেঙ্গল ইসলামী লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এম.এম মনিরুল আলম, প্রোগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুল আমিন ও স্বদেশ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সি.সি) এ জেড কাওছার এবং বিভিন্ন লাইফ ও নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ। বিভিন্ন লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির তাকাফুল ইন্স্যুরেন্স বিভাগের বিপুল সংখ্যক বীমা কর্তকর্তা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, রমজান অর্থ সংযম। রমজান আমাদেরকে যে কোন অন্যায় কাজ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখার শিক্ষা দেয় । আমরা রমজানের এই শিক্ষা যেমন ব্যক্তি জীবনে মেনে চলবো, তেমনি আমাদের কর্মজীবনেও মেনে চলতে হবে। গ্রাহকের অর্থ বীমা কোম্পানিতে পবিত্র আমানত। আমরা যারা এ সকল বীমা কোম্পানিতে কর্মরত আছি, আমাদের দায়িত্ব গ্রাহকের আমনত হেফাজত করা এবং সময় মতো তাদেরকে বুঝিয়ে দেয়া। তাহলে আমাদের সঠিক দায়িত্ব পালন করা হবে। আমরা গ্রাহকের আমনত তসরুপ করলে তাদের কাছে যেমন দায়ি হবো, তেমনি আল্লাহ’র কাছেও আমাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে। সুতরাং রমজানের এই শিক্ষা আমরা মেনে চললে দুনিয়া ও পরলোকে লাভবান হবো।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জনাব তোফাজ্জল হোসেন এ ধরনের একটি আলোচনা সভার আয়োজন করায় আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ তাকাফুল সোসাইটির (বিটিএস) কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আপনাদের আলোচনা থেকে আমার একটি ধারনা হয়েছে, বাংলাদেশে ইসলামী তাকাফুল বীমার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। অনুষ্ঠানে একাধিক ইসলামী বিশেষজ্ঞ তাদের সুন্দর মতামত তুলে ধরে অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত করেছেন। তিনি বলেন, ব্যাংকের মতো বীমা সেক্টরেও একটি তাকাফুল নীতিমালা প্রণয়ন করা দরকার। তাহলে বীমা কোম্পানি এবং গ্রাহক উভয়ের স্বার্থ সংরক্ষন নিশ্চিত হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি এম.এম মনিরুল আলম বলেন, বাংলাদেশ তাকাফুল সোসাইটির (বিটিএস) ইসলামী তাকাফুল বীমা নিয়ে একটি আর্ন্তজাতিক সেমিনার করা যেতে পারে। তিনি বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে আমরা আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান ড. আসলাম আলমের সাথেও কথা বলেছি। তিনি আরও বলেন, মুসলিম দেশ হিসাবে আমরা মালোয়েশিয়ার সাথে একটি সমঝোতা স্বারক সাক্ষর করতে পারি।

সংঠনের চেয়ারম্যান ড.আ.ই.ম. নেছার উদ্দিন বলেন, বীমা আইন-২০১০ এ তাকাফুল ইসলামী আইন নেই। আমরা বীমা আইনটি সংশোধন করে ইসলামী তাকাফুল আইন সংযোজন করার জন্য বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি এবং এ ব্যাপারে কাজ করা হচ্ছে। তিনি বীমা কোম্পানিগুলোতে ইসলামী তাকাফুল বীমায় কর্মরতদের মধ্যে এখনো যারা এই সংগঠনের সদস্য হন নাই, তাদের অনতিবিলম্বে সদস্য হবার আহবান জানান।
অনুষ্ঠান শেষে মুসলিম বিশ্ব এবং বংলাদেশের বিশেষ করে বীমা খাতের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।

Posted ৮:১৩ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Arthobiz | zaman zaman


